বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যায়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মিছিল ও মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠন তথা জেলা সমিতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে কয়েকদিনের জন্য দুই-তিন লাখ শিক্ষার্থী উপস্থিত হন রাজশাহীতে। রাবির হলগুলোর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন মেসে অবস্থান করেন পরীক্ষার্থীরা। এসময় ভর্তিচ্ছুদের কোনও সিট দিতে না পারলেও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলা, মেহেরচণ্ডী, বিনোদপুর, মির্জাপুর ও তালাইমারী এলাকার মেস মালিকরা প্রতি রাতের জন্য একেকজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে দুইশ রাখতেও টাকা নেন। যারা মেসে থাকেন, তাদের অতিথিদের জন্যও টাকা নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘মেস মালিক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বুধবার আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকার বেশি নিতে পারবেন না। কোনও মেস মালিক এর বেশি টাকা নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মেস মালিক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির কারণে ২০০ টাকার বদলে ১০০ টাকা নেওয়া হবে।’
মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা জানায়, ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলেও তাদের আলাদা কোনও সিটের ব্যবস্থা করতে পারেন না মেস মালিকরা। তাদের সঙ্গেই ভাগাভাগি করে ভর্তিচ্ছুদের থাকতে হয়।
এ ব্যাপারে রাবি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন,‘এটা পুরোপুরি অনৈতিক সিদ্ধান্ত। মেস মালিকদের এমন সিন্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমর্থন জানানো খুবই দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন মেসে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব বন্ধে কোনও সিদ্ধান্ত নেয় না।’ বিনা অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবিও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, আগামী ২২-২৬ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি অনুষদে ৫৯টি বিভাগে চার হাজার ৬৩৬টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন তিন লাখ ১৬ হাজার ১২০ জন। যা গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। প্রতি আসনে লড়বে ৬৮ জন ভর্তিচ্ছু।