রাবিতে শিবির নেতাকে পিটিয়ে জখম, ছাত্রলীগ-শিবিরের অস্ত্র মহড়া

শিবির নেতাকে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রলীগরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক শিবির নেতাকে সোমবার বেধড়ক মারধর করে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ এবং শিবির ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি মিছিল বের করেন। এতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মারধরের শিকার শিবির নেতা আরিফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিভাগের (ফার্সি) মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল শাখা শিবিরের সেক্রেটারি বলে জানা গেছে। এর আগেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গত ৮ আগস্ট আরিফকে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই সময় তার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দেয় পুলিশ। পরে ওই মামলা থেকে জামিন পান আরিফ। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করেছে পুলিশ।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টার দিকে আরিফসহ বেশ কয়েকজন সাবাস বাংলাদেশ মাঠের পাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় রাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল কুমার অর্ক ও সাবরুন জামিল সুষ্ময় তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখান থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২২২ নম্বর কক্ষে নিয়ে আসে। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করার পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের মহড়াএ ঘটনার পর অস্ত্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি মিছিল বের করেন ছাত্রলীগ ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজার থেকে একটি মিছিল বের করে  শিবির। এ সময় তাদের হাতে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে। মিছিলে শিবিরের প্রায় ১০০ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। মিছিলটি বেতার মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

অন্যদিকে, সোয়া ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে একটি মিছিল বের করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিলে প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল। এ সময় নেতাকর্মীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, রড ও লাঠি দেখা যায়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে গিয়ে শেষ হয়।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের রাবি শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘এর আগেও ওই ছেলেকে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। আজ সে সাবাস বাংলাদেশ মাঠে কয়েকজনের সঙ্গে মিটিং করছিল। এ সময় নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিয়ে তাকে ধরে। পরে মারধর করে পুলিশে দেয়।’

জানতে চাইলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘এক শিবির নেতাকে আটকের পর আমাদের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছি। অবস্থা স্বাভাবিক হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন:


নাচোলে পুলিশি হেফাজতে আসামির মৃত্যু: সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ