বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী মহানন্দা একপ্রেস ট্রেনে চেপে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈশ্বরদী পৌঁছায় শিহাব ও লিটন। সেখান থেকে তাদের পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। দফতরের সামনে ফুলের তোড়া দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানান রেল কর্মকর্তারা।
পরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার অসীম কুমার তালুকদার শিশুদের প্রত্যেককে ১৩ হাজার টাকা ও ক্রেস্ট প্রদান করেন। এ সময় তিনি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান নয়ন, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা শওকত জামিল মোহসী, বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আসাদুল হক, বিভাগীয় সেতু প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, বৈদ্যুতিক কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা আলম, পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল, রেলওয়ে ঠিকাদার ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, রেল শ্রমিক লীগের সভাপতি ইকবাল হায়দার প্রমুখ।
আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল, রেলওয়ে ঠিকাদার আনোয়ারুল ইসলাম দুই শিশুকে এক হাজার টাকা করে নগদ পুরস্কার দেন। মীর আকতার হোসেন লিমিটেড এর পক্ষ থেকে দুই শিশুকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার অসীম কুমার তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই বয়সী ছেলেরা সাধারণত রেখের ইঞ্জিন বা জানালার দিকে ঢিল ছোড়ে। ট্রেনের চালক ও যাত্রীরা আহত হয়। কিন্তু এই শিহাব ও লিটন ব্যতিক্রম। তারা একটি ট্রেনকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছে। এ জন্যই আমরা তাদের সংবর্ধনার ব্যবস্থা করেছি। অনুষ্ঠানে অনেককেই ডেকেছি যাতে তারা উৎসাহিত হয়। এই রেল আমাদের জাতীয় সম্পদ, এর রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। সবাই যেন রেলকে এভাবেই রক্ষা করে।’
গত ১৮ ডিসেম্বর এই দুই শিশুর বুদ্ধিমত্তার কারণে জ্বালানি তেলবাহী ৩২ বগির একটি ট্রেন দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায়। রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় লাইন ভাঙা দেখতে পেয়ে লাল রঙের মাফলার ওড়াতে থাকে দুইজন। তাদের মাফলার দেখে ট্রেনের চালক ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এভাবেই দুর্ঘটরনার হাত থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী স্টেশনের ৪০০ মিটার পূর্ব দিকে ঝিনা রেলগেটের কাছে এই ঘটনা ঘটে।
দুই শিশুই আড়ানী ইউনিয়নের ঝিনা গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে শিহাব গ্রামের সুমন আলীর ছেলে ও লিটন শহীদুল ইসলামের ছেলে। শিহাব প্রথম ও লিটন দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। রেলের জমিতে পরিবারের সঙ্গে তাদের বসবাস। মঙ্গলবার দুই শিশুকে পুরস্কৃত করেছেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন রেজা। রেললাইনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে শিহাব ও লিটনের হাতে স্কুলব্যাগ, টিফিন বক্স ও কম্বল পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন তিনি।
আরও পড়ুন- সেই দুই শিশুবীর