এদিকে, আগামী ২৮ ডিসেম্বর ধার্য তারিখে চার্জশিট গৃহীত হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও সোলায়মান।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় শিবগঞ্জের চককানু গ্রামে শিয়া মসজিদে মাগরিব ও এশার নামাজ এক সঙ্গে আদায়ের সময় মাথায় টুপি ও পিঠে ব্যাগ থাকা ২০-২২ বছরের তিন যুবক মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে। তারা বাথরুম কোথায় তা জানতে চায়। এরপর নামাজরত মুসল্লিদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন (৭০) মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হন ইমাম শাহিনুর ইসলাম (৩৫), মুসল্লি আফতাব আলী (৪২) ও আবু তাহের মিস্ত্রি (৭০)। এ ঘটনায় মসজিদের কোষাধ্যক্ষ সোনা মিয়া অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনায় তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া। তিনি জানান, শিয়া মসজিদে হামলায় জেএমবির প্রশিক্ষিত ১৩ সদস্য জড়িত ছিল। হামলার আগে তারা মহাস্থানের গোবিন্দভিটায় বৈঠক ও কয়েকবার ঘটনাস্থল রেকি করে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় স্কুল ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র ও গ্রেনেড নিয়ে দুটি মোটরবাইকে ছয় জঙ্গি শিয়া মসজিদে হামলা চালায়। নামাজরত মুসল্লিদের ওপর গুলিবর্ষণের পর তারা বাইকে পালিয়ে যায়। হামলার পরিকল্পনায় ১৩ জনের মধ্যে চার জন কারাগারে, পাঁচ জন পলাতক এবং চার জন পুলিশের সঙ্গে বগুড়া, দিনাজপুর ও ঢাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায়।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ম্যাজিস্ট্রেটকে সাক্ষী করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তবে এতদিন কেন বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি সে সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
আদালতের জিআরও এসআই সোলায়মান জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্প্রতি সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করায় এবং নথি জজকোর্টে থাকায় এতদিন চার্জশিট গৃহীত হয়নি। তিনি আশা করেন, আগামী ২৮ ডিসেম্বর ধার্য তারিখে চার্জশিটটি গৃহীত হবে।
বগুড়ার পিপি আবদুল মতিন জানান, চার্জশিট গৃহীত হওয়ার পর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
শিবগঞ্জের ইমামিমা জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শিয়া নেতা আলহাজ্ব আবু জাফর জানান, সুন্নি ও শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যকার বিদ্যমান ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করতেই এমন হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি বলেন, শিয়ারা এখন মামলার বিচার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।