আহতরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহযোগী ও সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল্যাহ আল মারুফ, প্রভাষক জিহাদ আহমেদ, শিক্ষার্থী আলমগীর, শান্ত, কিবরিয়া, তারেক, আশিকুর রহমান এবং ফিন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মেহেদি হাসান, মারুফ ও রিফাত।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ এবং ফিন্যান্স বিভাগের মধ্যে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার সেমি ফাইনাল খেলা চলছিল। খেলায় ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ জিতে যাওয়ায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে ওঠে। এ সময় দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরকে কটাক্ষ করে কথা বলাবলি করছিল। পরে শিক্ষকরা মাঠ থেকে বের হয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও ফিন্যান্স বিভাগের রিফাতসহ কয়েকজন ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধর শুরু করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল্যাহ আল মারুফ ও প্রভাষক জিহাদ আহমেদ আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ভূগোল বিভাগের আহত শিক্ষার্থীরা বলেন, খেলা চলাকালে আমাদের সঙ্গে ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটু ঝামেলা হয়। খেলা শেষ করে শান্তভাবে আমরা মাঠ থেকে বের হয়ে আসছিলাম। এ সময় রিফাতসহ কয়েকজন আমাদের মারধর শুরু করে। এ সময় শিক্ষকরা তাদের আটকাতে গেলে তাদেরও মারধর করে তারা।
তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন ছাত্রলীগ নেতা এরশাদুর রহমান রিফাত। তিনি বলেন, ‘খেলা শেষে ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে কটাক্ষ করে কথা বলতে থাকে। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উল্টো তারাই আমাদের বিভাগের তিন শিক্ষার্থীকে মারধর করে।’
আহত শিক্ষক মো.মিজানুর রহমান জানান, ‘খেলা নিয়ে এ ধরনের ঘটনা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে এ ধরনের কিছু আশা করা যায় না।’
ফিন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের তিন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। ওরা হাসপাতালে আছে। আমরা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। পরে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’