ঘটনার বিষয়ে জানতে গেলে শিক্ষার্থীর মায়ের সাথেও অশোভন আচরণ করেন রঞ্জু। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীর মা ফারজানা আকতার মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ মাধ্যমিক শিক্ষা দফতরের জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের কাছে পরিচালক রঞ্জুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
শিক্ষার্থী সাবেদুল ইসলামের মা বলেন, আমার ছেলেকে গত এক মাস আগে শহীদ ক্যাডেট কোচিং ও মডেল স্কুলের টাঙ্গাইল শাখায় ভর্তি করি। ছেলে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় পরে তাকে সিরাজগঞ্জ শাখায় বদলি করা হয়। অসুস্থতার কারণে সে প্রায় ১০/১২ দিন কোচিং সেন্টারে অনুপস্থিত ছিল। মঙ্গলবার সকালে সে সিরাজগঞ্জ শাখায় ক্লাস করতে গেলে পরিচালক রঞ্জু তাকে চুল টেনে ধরে বেশ কটি চড় মারে। এরপর তাকে পেটায়। বিষয়টি জানতে গেলে শিক্ষক রঞ্জু উল্টো আমার সঙ্গে অশোভণ আচরন করেন। এরপর ছেলের প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শামীম আহম্মেদ জানান, সাবেদুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘ওই কোচিং সেন্টারের পরিচালককে বুধবার আমার অফিসে ডাকতে সদর উপজেলা মাধ্যমিক অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইফতেখার শামীম বলেন, জেলা প্রশাসক বিকালে আসার পর দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের কপি পেয়ে আমরাও বিষয়টি দেখছি।
শহীদ ক্যাডেট কোচিং ও মডেল স্কুলের সিরাজগঞ্জ শাখার পরিচালক হাসানুজ্জামান রঞ্জু বলেন, ‘ছেলেটি যে অসুস্থ ছিল, তা জানতাম না। তাকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখে চড় মারাটা আমারও ঠিক হয়নি। ছেলেটির মা এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানে এসে হৈচৈ করায় তার ছেলেকে কোচিং সেন্টার থেকে নিয়ে যেতে বলেছি।’