রিয়াদ হোসেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ধর্ষণের অভিযোগে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। তার বাড়ি বেলকুচি উপজেলার চরচালা গ্রামে। স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ছাড়াও বেলকুচি পৌরসভা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও নারী মেয়রকে লাঞ্ছিত করা, বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্থানীয় এমপি আব্দুল মজিদ মণ্ডলকে নিয়ে কটূক্তিসহ বেশ ক’টি মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি সে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিআইবি)-এর সিরাজগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস.এম. তারেক রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৩ অক্টোবর বেলকুচির কলাগাছি গ্রামের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছাত্রীর মামা রিয়াদসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলার তদন্তভার পিবিআই’কে দেয়। তবে তদন্ত নিয়ে পিবিআই শুরু থেকেই নানা টালবাহানা ও গড়িমসি করে। তদন্ত নিয়ে কালক্ষেপণের অভিযোগে দু’দফা তদন্ত কর্মকর্তাও বদল করা হয়।
এছাড়াও ধর্ষণের ঘটনায় ভিকটিম প্রথমে বেলকুচি থানায় অভিযোগ দিতে গেলে রিয়াদসহ অন্য আসামিদের যোগসাজশে মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা না করার জন্য ওসি সাজ্জাদ হোসেন সাদা কাগজে কৌশলে স্বাক্ষর নেন বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া গত ১৪ ডিসেম্বর বেলকুচি পৌরসভা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও নারী মেয়রকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিও রিয়াদ। সম্প্রতি যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল হক রেজা ও ফারুক হোসেনকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করার পর বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় বেলকুচি থানায় আরেকটি দ্রুত বিচার আইনে দায়ের হওয়া মামলায়ও রিয়াদ চার্জশিটভুক্ত আসামি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্থানীয় এমপি আব্দুল মজিদ মণ্ডলকে নিয়ে কটূক্তি করায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে আরেকটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে আলোচিত রিয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে।