রাবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের পতাকা মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা

আন্দোলনকারী তারেককে পেটাচ্ছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাকোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পতাকা মিছিলে হামলা চালিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সোমবার (২ জুলাই) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে। এরমধ্যে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
গুরুতর আহত তরিকুল ইসলাম তারেক কোটা সংস্কার আন্দোলন রাবি শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক। তিনি ইসলামের স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারধরে ওই শিক্ষার্থীর ডান পা ভেঙে গেছে ও মাথায় জখম হয়েছে। তাকে রামেকে’র ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকাল ৪টার দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পতাকা মিছিল বের করে ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বিনোদপুর থেকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক দিয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের দিকে আসছিল। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আগে থেকেই রাবি ছাত্রলীগের ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে প্রায় ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। আন্দোলনকারীরা প্রধান ফটকের কাছে আসতেই তাদের ধাওয়া দিয়ে হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ছত্রভঙ্গ হয় আন্দোলনকারীদের। এসময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।আহত তারেক
এসময় মহাসড়কে সংস্কার আন্দোলন রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তারেক পড়ে গেলে তার ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাকে লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান সিনহা, সাংগঠনকি সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশু, সহ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কর্মী লতিফুল কবির মানিকসহ কয়েকজন। পরে পুলিশ এসে তারেককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এসময়, সহ-সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, মাহফুজুর রহমান এহসান, রফিকুল ইসলাম, ছানোয়ার হোসেন সারোয়ার, আহমেদ সজীবসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের রাবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশের সামনেই মারধর করে। এতে আমাদের ১২ জন আহত হন। এর মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।’
রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘তারা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছিল তাই তাদের প্রতিহত করেছি।’
প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে আসছিল। এসময় ছাত্রলীগ ও তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে জেনেছি। এতে একজন আহত হওয়ার কথা শুনেছি।’