পিডিবির অরক্ষিত লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল আটজনের

সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আটজন নিহতের ঘটনায় স্বজনদের আহাজারি

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় বাঁশের খুটির সঙ্গে টানানো পিডিবির অরক্ষিত এলটি লাইনের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কাদাই গ্রামের পবিস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও আরও একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনন্নেছা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা.ফরিদুল ইসলাম তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন, কাদাই গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২), মেঘা শেখের ছেলে আব্দুস সাত্তার (৫০), তার ভাতিজা আব্দুল হামিদের ছেলে ছানোয়ার হোসেন (৩৩), আবু তাহেরের ছেলে পাইকপাড়া মডেল হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল্লাহ শেখ (১৩), কাসেমের ছেলে তাঁত শ্রমিক আব্দুল মমিন (৩০), আব্দুল আলীমের ছেলে পাইকপাড়া মডেল হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সজীব হাসান (১৫) আমিনুল ইসলামের ছেলে ছাতিয়ানতলী-মোড়গ্রাম কারিগরি স্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র রাজু আহম্মেদ (১৪) এবং আবুল হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান হাবিব (২৪)।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহতদের স্বজনদের আহাজারি

স্থানীয়রা জানান, আবু তাহের নামে এক ব্যক্তির একটি টিনের পুরনো টঙ দোকান কাদাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাড়ে বর্ষার পানিতে ডুবে থাকায়  তিনি একই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের কাছে তা বিক্রি করে দেন। দুপুরে সাত্তার স্থানীয় ১০-১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানটি উঠিয়ে অন্য স্থানে সরিয়ে নিচ্ছিলেন। এসময় পিডিবির অরক্ষিত বিদ্যুৎতের তারের সঙ্গে দোকানের টিনের চালা আটকে যায়। টানাটানির এক পর্যায়ে তা ছিড়ে পুরো ঘরটি বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সবাই পানিতে পড়ে যান এবং গুরুতর আহত হন।তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে আটজনকেই মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। বাকী দু’জনের লাশ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন বা পিডিবি থেকে কোনও তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি।

তবে আগের পিডিবি বর্তমানে নার্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন বলেন,‘এ ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে শুনেছি।

অরক্ষিত লাইন নিয়ে সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,‘বাজেট না থাকার কারণে ওই এলাকায় আমাদের অরক্ষিত কিছু লাইন আছে। দুই দশক ধরে এভাবেই লাইন দেওয়া হচ্ছে। পুরনো লাইনগুলো সংস্কারের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আগেই জানিয়েছি। তবে বাজেট না আসার কারণে তা ঠিক সম্ভব হচ্ছে না। ’

লাইনটি অবৈধ ছিল কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ‘এলাকায় না যাওয়া পর্যন্ত তা বলা যাচ্ছে। আমার সেখানে যাওয়ার পর বলতে পারবো। ঘটনার পরপরই আমরা সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও জনরোষের কারণে যেতে পারিনি।’

সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ মোহাম্মদ দাউদ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,‘ময়নাতদন্ত শেষে লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ব্যাপারে এখনো কোনও মামলা হয়নি।’

খবর পেয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ আলী এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার মোহাম্মদ রায়হানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার পর পরই পবিসের লোকজন কাদাই গ্রামে গেলেও পিডিবির লোকজন লাঞ্ছিত হবার ভয়ে কাদাই গ্রামে যাননি।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা নিহতদের আটজনের পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানিয়েছেন।