শনিবার সকাল ১০টা থেকে নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার এলাকায় বড় মসজিদের সামনে জিরোপয়েন্ট এলাকায় জড়ো হতে থাকে। এ সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা নানা স্লোগান দেয়। পরে তারা সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গায়। এ সময় পুলিশ তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে রেখে নিরাপত্তা দেয়। সেখানে কালো ব্যাচ পরে উপস্থিত হন রাজশাহী জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেন।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আমানউল্লাহ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। ওসি বলেন, ‘আমাদেরও সন্তান আছে। তাদের ভালোবাসি। তাই আমরাও তোমাদের দাবির সঙ্গে একমত। তোমরা নিরাপত্তা চেয়েছো, আমরা দিয়েছি। তোমাদের কর্মসূচি সবাই দেখেছে, জেনেছে। এখন তোমরা ঘরে ফিরে যাও। পড়ার টেবিলে বসো।’
অল্প সময়ের মধ্যে কর্মসূচি সমাপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বড় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর। সুযোগসন্ধানী মহল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে। একটু দোড়াদৌড়ি করলেই পদদলিত হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যারা এখনও স্কুলে যায়নি, এমন শিশুকেও দেখছি। তাদের নিরপত্তার বিষয়টি ভাবতে হবে।’
এ সময় শিক্ষার্থীরা আরও ১৫ মিনিট সময় চায়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করে ঘরে ফিরে যায়। এর আগে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করায় তারা ওসি আমান উল্লাহসহ দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ফুল উপহার দেয়। পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও এ সময় শিক্ষার্থী ও তাদের ব্যানারের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায়।
বোয়ালিয়া থানার ওসি আমানউল্লাহ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আমরা বাচ্চাদের সহযোগিতা করেছি। তাই কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। খুশি হয়ে তারা আমাদের ফুল দিয়েছে। আজকের মতো তারা ঘরে ফিরেছে। তবে আগামীকাল (রবিবার) তারা আবার আসবে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হলে সব সময় তাদের সহযোগিতা করা হবে।’
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুনজুর রহমান পিটার ঘোষণা দিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে দিনে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হবে। সে অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। এতে বরাবরের মতো দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
রাজশাহীর শিরোইল ও নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, শনিবার সকাল থেকে কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। যাত্রীদের নগরীর শিরোইল, ভদ্রা ও রেলগেট বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বাস না পেয়ে কেউ কেউ বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে রওনা হন।