সিরাজগঞ্জে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় সদর থানার এসআই ক্লোজ

সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকাররম হোসেনকে ক্লোজ করা হয়েছে

সিরাজগঞ্জে ট্রাফিক আইন অমান্য করার অপরাধে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকাররম হোসেনকে রবিবার দুপুরে ক্লোজ করা হয়েছে। হেলমেট না পড়ে মোটরসাইকেল চালানোর অপরাধে পুলিশ সুপার  নিজেই তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করেছেন। পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কমবাইন্ড সাইকেল বিদ্যুত কেন্দ্রের (২য় ইউনিট) উদ্বোধন উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সকালে এক ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ভিডিও কনফারেন্স শেষে দুপুরে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন উপলক্ষে রবিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। ওই র‌্যালিতে স্থানীয় সাংসদ প্রফেসর হাবিবে মিল্লাত মুন্না ও নারী সাংসদ সেলিনা বেগম স্বপ্না এবং জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা ও নবাগত পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তীসহ জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা এবং সরকার দলীয় নেতারা ওই র‌্যালিতে অংশ নেন। র‌্যালি শুরুর আগে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকাররম হোসেন হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেলে করে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে থানায় ফিরছিলেন। পুলিশ সুপার এ সময় উপ-পরিদর্শক মোকাররমকে দেখে ডাকেন। পরে হেলমেট না পড়ার অপরাধে তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্তর করার জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপারের এমন পদক্ষেপ ও নির্দেশের কারণে পুরো জেলায় পুলিশ বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি হয় বলে জানা যায়।

বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ প্রতিবেদকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমার লোকজনই যদি ঠিকমত আইন মান্য না করে, তাহলে সাধারণ মানুষ মানবে কেন বা সতর্কই হবে কিভাবে। তাই ট্রাফিক আইন অমান্য করার অপরাধে আমার পুলিশ সদস্যকেই আগে সতর্ক করলাম।

এদিকে, ক্লোজের বিষয়ে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মোকাররম হোসেন বলেন, সাক্ষি দিয়ে আদালতে গিয়েছিলাম। আদালত সাক্ষি না নেওয়ায় ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালিতে যোগ দেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে হোন্ডায় করে ফিরছিলাম। তাই হেলমেট পড়ার সুযোগ পাইনি। এ সময় পুলিশ সুপার স্যারের সামনে পড়ায় তিনি আমার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমি নিজেও এ ঘটনায় হতবাক হয়েছি। তাছাড়া সব সময় হেলমেট পড়ে বা সঙ্গে নিয়ে পুলিশের ডিউটি করাটা বাস্তবে খুবকঠিন ব্যাপার।