বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৮ জন নিহত: নেসকো’র ৭ কর্মচারীকে বদলি, সাময়িক বরখাস্ত ২

সিরাজগঞ্জসিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কাঁদাই গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৮ জন নিহতের ঘটনায় নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত ও সাত কর্মচারীকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। একই ঘটনায় এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকেও সাময়িক বরখাস্ত এবং চার নির্বাহী ও আবাসিক প্রকৌশলীকে শোকজ করা হয়েছে।
এদিকে কর্মচারীদের একতরফা দায়ী করে শাস্তি দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ নেসকো’র কার্যালয়ের কর্মচারীরা অফিস প্রাঙ্গনে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
অন্যদিকে, নির্বাহী/আবাসিক প্রকৌশলী এবিএম মহিউদ্দিনকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করে মঙ্গলবার সকালে অফিসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাকে গেটের সামনে আটকে রেখে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন বিক্ষুব্ধ সিবিএ নেতারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিরাজগঞ্জের প্রকৌশলী নির্বাহী ও আবাসিক প্রকৌশলী এবিএম মহিউদ্দিনকে দুপুরে সিরাজগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। বিকালে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলীকে পাবনা তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীল কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলেও কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত ও বদলির আদেশের কোনোটিই বাতিল হয়নি।
নেসকো’র স্থানীয় সিবিএ নেতা ও লাইনম্যান কমল চন্দ্র সিং বলেন, ‘আমরা তো ওই ঘটনার জন্য দায়ী বা অভিযুক্ত নই। কিন্তু, তারপরেও অন্যায়ভাবে আমিসহ লাইনম্যান নাসির উদ্দিন, রমজান আলী, ফোরম্যান নুরনবী আকন্দ, ইলেক্ট্রিশিয়ান শহিদুল ইসলাম, ফোরম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান জুয়েল ও হেলপার বেলাল হোসেনসহ সাত জনকে নওগাঁ, জয়পুরহাট ও চাপাইনবাবগঞ্জ বদলি করা হয়। নিরপত্তা প্রহরী নজরুল ইসলাম ও চালক আতোয়ার রহমান ডাবলুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও নেসকো’র সিরাজগঞ্জ শাখার ফোরম্যান-এ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান জুয়েল বলেন, ‘কাঁদাই গ্রামে যারা অবৈধভাবে লাইন দিয়েছেন, যাদের কারণে নিরীহ গ্রামবাসী মারা গেছেন তাদের শাস্তি হোক। কিন্ত কর্মচারীরা কেন? তদন্তে অভিযুক্ত হয়েছেন কর্মকর্তারা, কিন্ত তাদের বাঁচাতে আমাদেরকে বলির পাঠা বানানো হয়েছে। ’
নেসকো’র রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এসএম রেজাউল করিম বলেন, ‘কাঁদাই গ্রামে বিদ্যুতের নন-স্ট্যান্ডার্ড বা ঝুঁকিপূর্ণ তারে জড়ে ৮ গ্রামবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শেষে ১৮ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর পৃথক আদেশে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মচারীদের বদলির আদেশের পর সিরাজগঞ্জে বিক্ষোভ হওয়ায় স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলীকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। দালাল চক্রকে সহযোগিতা করা এবং অবৈধ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করায় ২ কর্মচারীর সঙ্গে নেসকোর স্থানীয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবাইদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী নেসকো ও বিউবোর ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অভিযুক্ত। নির্বাহী, আবাসিক বা সহকারী প্রকৌশলীরা অভিযুক্ত হলে তাদের সরাসরি সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান নেই। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কৈফিয়ত তলব ও ব্যাখা চাওয়া হয়। জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বা জবাব যথাযথ না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিরাজগঞ্জে দোষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাই-ই করা হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণে কর্মচারীদের কোনোভাবেই ক্ষুব্ধ হওয়ার কোনও কারণ নেই। অপরাধী কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না। ’
এদিকে প্রত্যাহার হওয়া সিরাজগঞ্জের প্রকৌশলী নির্বাহী ও আবাসিক প্রকৌশলী এবিএম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমার সময় কাঁদাই গ্রামে নন স্ট্যান্ডার্ড বা ঝুঁকিপূর্ণ লাইন বসানো হয়নি, তারপরেও আমাকেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাদের সময় এসব লাইন বসেছে তাদের কেউ অন্যত্র বদলি হয়েছেন, কেউ কেউ এরই মধ্যে অবসরে গেছেন।‘