সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোজাহারুলের মেয়ে উরসী মাহফিলা ফাতেহা। তিনি জয়ীতা পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন নারী উদ্যোক্তা। নগরীর উপশহরে তার বাড়ি।
উরসী মাহফিলা ফাতেহা বলেন, ‘নগরীর উপকণ্ঠ মোল্লাপাড়া এলাকায় আমাদের ১৮ কাঠা জমি আছে। এরমধ্যে ১২ কাঠা আমার বাবার এবং ৬ কাঠা আমার নিজের নামে। গত কিছুদিন ধরে বাবা অসুস্থ। আমিও নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। এই সুযোগে মোল্লাপাড়া এলাকার মিলন হোসেন ও তার ভাই রুহুল আমিন জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছেন। তারা সম্পর্কে আমাদের আত্মীয়।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকালে ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে মিলন ও রুহুল আমাদের জমিতে বাঁশ, টিন, ইট, বালু ফেলে দখল শুরু করেন। খবর পেয়ে তারা গিয়ে বাধা দেন। এ সময় মিলন ও রুহুল উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। আমরা শঙ্কায় আছি, প্রতিপক্ষরা আমাদের যেকোনো ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। দখলে নিতে পারেন তাদের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এই জমিটি।’
সংবাদ সম্মেলনে উরসী বলেন, ‘এ ঘটনার প্রতিকার পেতে এবং মিলন ও রুহুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সেদিনই ( ১৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া গত ১৫ সেপ্টেম্বর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে মিলন ও রুহুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান উরসী।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে উরসী মাহফিলা ফাতেহার অভিযোগের ব্যাপারে মো. মিলন বলেন, ‘আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিপদে ফেলার জন্যই উরসী নামে ওই নারী এমন অভিযোগ করেছেন। নগরীর মোল্লাপাড়া এলাকায় তাদের বাঁশ, খুঁটি ও টিন ফেলে জমি দখল করার চেষ্টার কথা আসলে ঘটনাটি সঠিক নয়। আসল ঘটনা হচ্ছে, অভিযোগকারী উরসী আমার সম্পর্কে আপন মামাতো বোন। কাশিয়াডাঙ্গার মোল্লাপাড়া মৌজার ২০৪, ২০৬ ও ১১৫ নম্বর দাগে আমার মামা মোজাহারুল ইসলাম ও মামী মনোয়ার ইসলামের জমি আছে। এরমধ্যে ১১৫ নম্বর দাগে ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি মামা মোজাহারুল ইসলামের কাছ থেকে বায়নানামা করা হয়। সেখানে জমির দাম ২৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। নিজের মামা বলে বায়নানামার সময় আমি ৭ লাখ ও কিছুদিন পরে আরও ৯ লাখ টাকা আমি তাদের দেই। এ বায়নানামায় উরসী নিজেই সাক্ষী আছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপরে ২০৪, ২০৬ ও ২০৮ নম্বর দাগে আমার মামা ও মামি ২ বিঘা ৫ কাঠা ১০ ছটাক জমি বিক্রির জন্য গ্রাহক দেখতে থাকেন। সেই সময় আমি ওই জমিটাও কেনার জন্য মামা ও মামির কাছে বায়নানামা করি। জমির সর্বমোট দাম ধরা হয় এক কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ পরিমাণ টাকা কয়েক দফায় পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে। জমিটি আমার দখলে রয়েছে, কিন্তু মামা ও মামী ওই দুই বায়নানামার উল্লেখিত জমি আমাকে রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছেন না। উল্টো আমাকে বিপদে ফেলার জন্য মামা ও মামী গোপনে তার মেয়ে উরসী মাহফিলা ফাতেহাকে বায়নানামা করা জমির কিছু অংশ রেজিস্ট্রি করে দেন। এসব ঘটনায় জটিলতা ও পারিবারিক সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় আমি আমার মামী, মামাতো বোনের সঙ্গে মীমাংসায় বসি ও তাদের আরও ২২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে উরসী জমিটি ফের নিজের দাবি করে ২২ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ১০ লাখ টাকা ফেরত দেয়। এসব ঘটনা সমাধানে স্থানীয় কাউন্সিলরসহ এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে বসা হয়েছিল। কিন্তু তারা বিভিন্ন তালবাহানা করে সময় পার করেছে।’
এ বিষয়ে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে আসলে পুলিশের তেমন কিছু করার থাকে না। এটা আদালতের ব্যাপার। আমরা উরসীকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। তারপরেও জমি দখলকে কেন্দ্র করে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়, তবে সেটা আমরা দেখবো। কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে দেওয়া হবে না।’