রবিবার বিকেল থেকে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে ট্রাক থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে স্থানীয়রা সোমবার দুপুরে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুট্টাবোঝাই ওই ট্রাকটি জব্দ ও লাশ দুটি উদ্ধার করে।
ট্রাকের মালিক লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার পশ্চিম জগতদেল এলাকার আব্দুল কাদেরের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, পাটগ্রাম থেকে ১১ টন ভুট্টা বোঝাই করে ট্রাকটি শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নরসিংদীতে রওনা দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মালিকের সঙ্গে তাদের কথা হয়। ট্রাক মালিকের দেওয়া তথ্যমতে উদ্ধার হওয়া লাশ দুটি ট্রাকচালক ও হেলপারের। এরমধ্যে চালক আল-আমিন হোসেন রংপুরের এবং হেলপার সোহেল পাটগ্রামের বাসিন্দা। নিহতের শনাক্ত করার জন্য স্বজনদের থানায় আসতে বলা হয়েছে।
এদিকে, সংবাদ পেয়ে পিবিআই, সিআইডি, জেলা পুলিশের বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা শাখা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. ফোরকান শিকদার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অন্য কোথাও শ্বাসরোধে হত্যার পর ট্রাকের কেবিনে করে তাদের লাশ এখানে নিয়ে আসা হয়। পরে ঘটনাস্থলে ট্রাকটি রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে গেছে। নিহতদের শরীরের অনেকাংশ ঝলসে গেছে। ট্রাকের ইঞ্জিনের তাপে না অন্য কোনও কারণে এটা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসটিগেশন (পিবিআই)-এর সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার ইনচার্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম তারেক বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। যেহেতু ট্রাকে রাখা ভুট্টা লুট বা চুরি হয়নি, তাই খুনের ঘটনা পারিবারিক বা ব্যবসায়িক কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বেও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘দুজনের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বেশ কিছু অংশ দগ্ধ হয়েছে। কোনও দাহ্য কেমিক্যাল বা পদার্থ দিয়ে ঝলসানো হয়েছে কিনা অথবা ইঞ্জিনের তপ্ত তেল বা পানিতে ঝলসে গেল কিনা, তদন্ত করলে তা বের হয়ে আসবে।’