রাজশাহীতে বিনিয়োগে প্রধান বাধা যোগাযোগ ব্যবস্থা: সেমিনারে বক্তারা




‘রাজশাহীর বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী অঞ্চল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান ছিল, সে সবও বন্ধ রয়েছে। নতুনভাবে শিল্প-কারখানাও স্থাপিত হয়নি। ফলে এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র গড়ে উঠছে না। আর নতুন বিনিয়োগ না আসার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। শনিবার (৬ অক্টোবর) রাজশাহী কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘রাজশাহীর বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা আয়োজনের অংশ হিসেবে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, ‘এক সময় রাজশাহীতে নৌ-বন্দর থাকলেও এখন সেই নদীই মৃতপ্রায়। তাই আকাশপথ, রেলপথ ও নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে রাজশাহীতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কারণ রাজশাহী হচ্ছে এমন একটি জায়গা যেখানে সবধরনের বিনিয়োগ করা সম্ভব।’

বক্তারা বলেন, রাজশাহীর টেক্সটাইল মিল, জুট মিল, রেশম শিল্প, সুগার মিল বন্ধের পথে। নতুনভাবে আর কোনও শিল্পায়নও হয়নি। কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের যে দাবি ছিল তা এখনো উপেক্ষিত। অথচ প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগের একটি হচ্ছে ‘বিনিয়োগ’। কিন্তু সেই উদ্যোগ এখনও এ এলাকায় বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক নির্মাণ, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপন, নতুন শিল্পনগরী স্থাপন প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু তারপরও রাজশাহী উপযোগী যে বিনিয়োগ প্রয়োজন তা সুদূরপ্রসারী। তাই নতুন শিল্প-কলকারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আমিনুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহিন আক্তার রেণী, রেশম বোর্ডের মহাপরিচালক আব্দুল হাকিম, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম ফজলুল হক, রাজশাহী চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী, উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি রোজেটী নাজনীন। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন।