রাজশাহী-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থিতা ফিরে পেলেও আসন-৬ ফাঁকা

 রাজশাহী

আইনি জটিলটা শেষে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে নাদিম মোস্তফার বদলে বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদের প্রার্থিতা বাতিল করেছে আদালত। ফলে এ আসনটি ফাঁকাই থাকলো।

তাহলে কাকে সমর্থন দিবে এমন বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, ‘এখনও দলীয়ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এই আসনে অন্য দলের প্রার্থীদের গ্রহণ যোগ্যতা বেশি না। আবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনও প্রার্থী নেই। তাই শেষ পর্যন্ত আবু সাঈদ চাঁদ ভাইয়ের প্রার্থিতা ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করবো। তারপরও যদি না হয়, কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা এই আসনে ভোটে অংশ নিবো।’

এই আসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ছাড়া প্রার্থী হিসেবে টিকে আছেন জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস সালাম। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে দলের নেতাকর্মীরা ১১ ডিসেম্বর বাঘায় এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ভোটের আলোচনাতেই নেই বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ফলে অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন মহাজোটের প্রার্থী দুইবারের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদের বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহরিয়ার আলম বলেন,‘চাঁদের মতো সন্ত্রাসী একজনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়া এলাকাবাসীর জন্য সুখবরই। কারণ তার বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা আছে সবগুলোই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য। এইরকম একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় সবাই খুশি।

সোমবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম আব্দুল কাদেরের কাছ থেকে রাজশাহী-৫ আসনে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল ধানের শীষের প্রতীক বুঝে নেন। নাদিম মোস্তফার স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) আপিল করলে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। ফলে পাকাপাকিভাবে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন নজরুল ইসলাম মন্ডল।

নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন,‘সরকারি ষড়যন্ত্র ছিল এই আসনটি ফাঁকা রাখা। সেটা বুঝতে পেরেই আমি আদালতে রিট করি। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আমি ধানের শীষের প্রতীক বুঝে পাই।’

এদিকে নিজ দলের হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে রিট করে তার প্রতিক ছিনিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। নাদিমের সমর্থক যুবদল নেতা জুলফিকার আলি ভুটু বলেন,‘বিগত ১০ বছর আমরা সরকারের জুলুম নির্যাতন সহ্য করেও দলকে সুসংগঠিত করেছি মামলা-হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া থেকেছি। নেতাকর্মীদের খারাপ সময় তিনি (নজরুল ইসলাম) কারো খোঁজ খবর রাখেনি। এমনকি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ ছিল না। যখন আমরা নাদিম ভাইকে নিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠ গুছিয়ে নিয়েছি। ঠিক তখন তিনি দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে রিট করে প্রতীক বাতিল করেছেন। এতে আসনটি আবারও আওয়ামী লীগের দখলে চলে গেলো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে নির্বাচনে নজরুলের হয়ে ভোটের মাঠে নামবেন কি না এ ব্যাপারে জানতে নাদিম মোস্তফার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তাকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি। তবে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন,‘পুঠিয়া দুর্গাপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা অধির আগ্রহে আমার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। সরকার ষড়যন্ত্র করে আমাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

নাদিম মোস্তফা তার পক্ষে নির্বাচনি মাঠে নামবে কি না। এমন বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন,‘সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দলে কিছুটা বিভক্তির সৃষ্টি তো হয়েছে। তবে দু-একদিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেব।

রাজশাহী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন,‘নাদিম মোস্তফার ব্যক্তিগত কিছু অনুসারী রয়েছে। তারা নজরুল ইসলামের জন্য নামবে কিনা তা বলতে পারছি না। তবে নজরুল ইসলামের চেয়ে নাদিম মোস্তফা এই আসনে শক্তিশালী প্রার্থী ছিল। এতে কোনও সন্দেহ ছিল না। তারপরও ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থীকে বের করে আনতে হবে। এজন্য দ্বন্দ্ব-ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবন্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রাজশাহী-৫ এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী নতুন মুখ চিকিৎসক মনসুর রহমান। এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন, জাকের পার্টির শফিকুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের রুহুল আমিন।