বগুড়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১, আহত ১০

বগুড়াবগুড়ার পল্লিতে নদী থেকে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় উত্তোলনকারীদের লাঠি ও রডের আঘাতে মোখলেসুর রহমান (৬৫) নামের এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার তেলিহারা উত্তরপাড়ায় দু’দফা হামলার এ ঘটনা ঘটে। আহতদের কয়েকজনকে শহরতলির ঠেঙ্গামারা এলাকায় রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আহতদের কয়েকজন হলেন—বগুড়া সদরের তেলিহারা উত্তরপাড়ার মোগলার ছেলে আবদুর রহমান, জাহিদুলের ছেলে সাবলু মিয়া, ধলুর ছেলে শাহাদত, মোসলেমের ছেলে পরাণ, হাসানের ছেলে নিখিল, নিহত মোখলেসের ছেলে খোকন, মৃত হাফিজারের ছেলে জাকের ও মঞ্জুর ছেলে শামীম। এদের মধ্যে আবদুর রহমান, সাবলু ও শাহাদতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া ও অন্যরা জানান, সম্প্রতি শেখের কোলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামে করতোয়া নদীতে একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ঠিকাদার এমদাদুল সরকার সেতু নির্মাণের জন্য নদী থেকে বালু উত্তোলন করছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বালু ট্রাকে তুলে অন্যত্র বিক্রি শুরু করেন। অবাধে ট্রাক চলাচল করায় গ্রামের রাস্তার ক্ষতি হচ্ছিল। তখন মোখলেসুর রহমান ও অনেকে বিরোধিতা করেন। একপর্যায়ে তারা ট্রাক চলাচল বন্ধের জন্য রাস্তার মধ্যে বাঁশের খুঁটি পুঁতে রাখেন। এতে ইউপি সদস্য ও ঠিকাদার এমদাদুল সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে বাহিনী নিয়ে তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামে গিয়ে লোকজনকে মারপিট শুরু করে। এতে ৩-৪ জন আহত হন। স্বজনরা তাদের শহরতলির ঠেঙ্গামারা এলাকায় রফাতউল্লাহ কমিউনিটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সকাল ৯টার দিকে মোখলেসুর ও তার লোকজন হাসপাতালে ভর্তিদের চিকিৎসার খরচ দিতে যাচ্ছিলেন। তারা এমদাদুলের বাড়ির কাছে পৌঁছালে তাদের ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। রড ও লাঠির আঘাতে মোখলেসুরসহ ৬-৭ জন আহত হন। এদের একই হাসপাতালে ভর্তি করলে বেলা ১১টার দিকে মোখলেসুর মারা যান।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, নিহতের লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিকাল ৪টায় এ খবর পাঠানোর সময় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য এমদাদুল সরকার বাড়িতে তালা দিয়ে স্বজনদের নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় ও ফোন বন্ধ রাখায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেখেরকোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক কামরুল হাসান ডালিম জানান, এমদাদুল সেতু নির্মাণের জন্য নদী থেকে বালু উত্তোলন করছিল। কিন্তু গ্রামের লোকজন ভুল বুঝে রাস্তায় খুঁটি দেন। আর এ নিয়ে বিরোধেই হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।