বহিষ্কার আতঙ্কে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা

 বিএনপিবগুড়ায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বহিষ্কার আতঙ্কে আছেন। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও সহযোগিতা করায় গত কয়েকদিনে ৩০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা বলছেন, ভোটের মাঠ তাদের পক্ষে আছে।নির্বাচিত হলে সংগঠন থেকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হবে।

জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশে উপজেলা নির্বাচন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বারবার নিষেধ করার পরও বগুড়ায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ২৯ নেতাকর্মী বিভিন্ন উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা করেননি। এছাড়া কোনও কোনও নেতা অন্য দলের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। জেলা বিএনপির জরুরি সভা থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পাঠানো হয়। রবিবার বিকাল পর্যন্ত তিন ধাপে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও সহযোগিতার অপরাধে ৩০ নেতাকর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জে জাপা মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ রিজুর পক্ষে কাজ  করার অভিযোগ রয়েছে।

নেতাদের বহিষ্কারের খবরে তাদের পক্ষে থাকা তৃণমূল নেতাকর্মীরা বহিষ্কার আতঙ্কে আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন নেতা জানান, বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক গায়েবি মামলায় পড়েছেন। এসব মামলায় জামিন নিতে ও গ্রেফতার এড়িয়ে চলতে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। পরিবার ফেলে দিনের পর দিন পালিয়ে থাকতে হয়েছে। এরপরও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বহিষ্কৃত নেতাদের পক্ষে থাকলে তাদের বহিষ্কার হতে হবে। তাই তারা বহিষ্কৃত প্রার্থীদের কাছ থেকে সরে যাচ্ছেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন জানান, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও সহযোগিতা করায় ২৯ প্রার্থীসহ ৩০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া নেতাকর্মীদের নির্বাচন বয়কট ও প্রতিহত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।