রাবিতে বর্ষবরণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

মঙ্গল শোভাযাত্রার থিম ঘোড়ার ডামির কাজে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা (ছবি– প্রতিনিধি)

দরজায় কড়া নড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। পুরোনো বছরের পাওয়া না পাওয়া, হতাশার গ্লানি মুছে নতুন প্রত্যাশায় নতুন বছরকে বরণ করে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবের মূল আকর্ষণ চারুকলা অনুষদ।

এবছর মঙ্গল শোভাযাত্রা থিম ধরা হয়েছে ময়ূর, হাতি, ঘোড়ার ডামি। এগুলো একেকটি ভিন্ন ভিন্ন বার্তা বহন করে বলে জানিয়েছে বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কনক কুমার পাঠক।

তিনি জানান, ঘোড়া গতির বার্তা বহন করে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে ধাবমান গতি ঘোড়ার ডামি তা নির্দেশ করে। হাতি বাংলাদেশের অর্থনীতির বিশাল আকার নির্দেশ করে। ময়ূর বৈশাখী উৎসবের উচ্ছ্বাস ও আমেজ নির্দেশ করে। শোভাযাত্রা ছাড়াও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে অনুষদ প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান কনক কুমার পাঠক।

তবে এবছর ডামিতে সীমাবদ্ধ থাকছে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন। ফলে অনেকটা হেলে খেলে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে চারুকলা অনুষদে দেখা যায়, সুনসান নীরবতা। হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী ডামির উপর কাগজ লাগানোর কাজ করছেন।

কথা হয় ডামি তৈরির কাজে ব্যস্ত চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মনু মোহন বাপ্পার সঙ্গে। তিনি জানালেন, রাজশাহীর সবচেয়ে বড় মঙ্গল শোভাযাত্রা এখান থেকে বের করা হয়। ফলে শোভাযাত্রাকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে এখানকার শিক্ষার্থীদের অন্যদের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

কখন নববর্ষের প্রস্তুতি শেষ হবে –এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এবার মুখোশ তৈরিতে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা থাকায় শুধু ডামিতেই সীমাবদ্ধ তাদের কাজ। ডামির কাঠামো তৈরির কাজ শেষ। এখন ডামির উপর কাগজ লাগিয়ে রং করার কাজ চলছে। তবে দুই দফা বৃষ্টির কারণে তাদের কাজে বিঘ্ন ঘটেছে, না হয় একদিন আগেই তাদের প্রস্তুতি শেষ হতো। এখন শেষ পর্যন্ত কাজ করা লাগবে বলেও জানান বাপ্পা।

বাপ্পার পাশেই ডামিতে কাগজ লাগাতে ব্যস্ত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর এটি তার প্রথম বৈশাখ। তিনি বলেন, বড় ভাই ও আপুদের কাছে শুনেছি, বৈশাখ বরণের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হয় চারুকলায়। এবার নিজেই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে অন্যরকম ভালো লাগছে।

এদিকে, চারুকলায় মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ এরই মধ্যে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম বাংলা বিভাগ, নাট্যকলা, সঙ্গীত, ফোকলোর, আইন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা, মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ।

এরই মধ্যে স্থান নির্ধারণ করে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাঁদা তুলে আয়োজন করা হচ্ছে সাংস্কৃতিক উৎসবের। সব মিলিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বরণে প্রস্তুত গোটা ক্যাম্পাস।