সরেজমিনে উপজেলার গোদাগাড়ী, কুপতলা, হিন্দুকান্দি, গোসাইবাড়ি, কাঁটাখালি, পাইকপাড়া, মাছিরপাড়া, বাঁশহাটা, ভেলাবাড়ি, জোড়গাছা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে গভীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাইপের মাধ্যমে নদী থেকে দূরে জমির মধ্যে বালু ফেলা হচ্ছে। ওই সব জায়গা থেকে ট্রাকে করে বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বালু উত্তোলন করায় নদী তীরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আশপাশের স্থাপনাগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। ট্রাকগুলো বেপারোয়া চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, জোড়গাছা থেকে গোদাগাড়ি গ্রাম পর্যন্ত গোদাগাড়ির প্রভাবশালী জুয়েল, শামীম, রিপন ও আবদুর রাজ্জাক, পৌরসভার হিন্দুকান্দি এলাকার ইলিয়াস উদ্দিন প্রমুখ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। নদী তীরে তাদের (কৃষক) জমি জেগে উঠলেও ড্রেজার মেশিনে বালু তোলায় তা ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে। ড্রেজার মেশিন বন্ধে উপজেলা পরিষদে আইনশৃংখলা কমিটির সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়ে থাকে। কিন্তু বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জোড়গাছার আবদুর রাজ্জাক ও অন্যরা বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বিভিন্ন মহলে খরচা দিয়েই আমরা বালু তুলে বিক্রি করে থাকি।’
উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুবেল উদ্দিন জানান, বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা আইনশৃংখলা সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি কয়েকবার উত্থাপিত হয়। এতে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে আবার চালু হয়।
এ প্রসঙ্গে সারিয়াকান্দি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিদ্ধার্থ ভৌমিক জানান, কয়েকদিন আগে জোড়গাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়ে তাদের আইনের আওয়াত আনা হবে।