বৃহস্পতিবার ঈদ পালন না করায় গ্রামবাসীকে ‘ডাক্তার পীরের’ হুমকি!

বগুড়াকথিত পীর ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের (শজিমেক) সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নানের নির্দেশে বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন না করায় বিপাকে পড়েছেন বগুড়ার শাজাহানপুরের পারতেখুর গ্রামবাসী। নির্দেশ অমান্য করায় পীর আবদুল মান্নান গ্রামবাসীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বুধবার ঈদ পালনের ঘোষণা দেওয়ায় গ্রামের মসজিদের ইমামকেও অপদস্থ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

আশেকপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, শজিমেকের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান নিজেকে পৈতৃক সূত্রে পীর দাবি করেন। তিনি দীর্ঘদিন পারতেখুর ঈদগাহ্ মাঠে ইমামতি করে আসছেন। সরকারিভাবে ৫ জুন বুধবার পবিত্র ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ঈদের নামাজে ডা. মান্নানের ইমামতি করার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। উল্টো স্বচক্ষে শাওয়ালের চাঁদ দেখতে না পাওয়ায় ডা. মান্নান তার অনুসারীদের বুধবারের (৫ জুন) পরিবর্তে বৃহস্পতিবার (৬ জুন) ঈদ পালনের নির্দেশ দেন। পরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পারতেখুর গ্রামের ফতেহিয়া ওয়ায়সিসা দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে নিজের অনুসারীদের নিয়ে তিনি ঈদের নামাজ আদায় করেন। জামাতে তিনি নিজেই ইমামতি করেন।

এদিকে ডা. মান্নানের নির্দেশ অমান্য করে পারতেখুর মধ্যপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুর রশিদ মাইকে ৫ জুন ঈদ পালনের ঘোষণা দেন। এতে পীর আবদুল মান্নান ও তার অনুসারীরা বিরক্ত হন। পরে ৮ জুন শনিবার সন্ধ্যায় ডা. মান্নান অর্ধশতাধিক ভক্তসহকারে গ্রামে এসে গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দেন। এসময় তিনি ৫ জুন ঈদের ঘোষণাকারী ইমাম মাওলানা আবদুর রশিদকে ডেকে এনে অপদস্থ করেন।

মাওলানা রশিদ অভিযোগ করেন, ডা. মান্নান সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ঈদের পরদিন তার তিন শতাধিক অনুসারী নিয়ে নামাজ আদায় করেছেন। আর বুধবার ঈদের ঘোষণা দেওয়ায় আমাকে অপদস্থও করা হয়। আমি বর্তমানে পীর বাহিনীর হুমকি-ধামকিতে খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।

আশেকপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্দিষ্ট দিনে ঈদ উদযাপন ও নামাজে সহযোগিতা করায় শনিবার সন্ধ্যায় পীর ও তার বাহিনীর সদস্যরা আমাকে হুমকি দিয়েছেন। পীরের অনুসারীরা আমাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছে। ভয়ে আমি অন্যগ্রামে আত্মীয় বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছি।

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, ডা. মান্নানের অনুসারীরা তার সমালোচনাকারীদের তালিকা তৈরি এবং তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এতে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে যেকোনও সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

এসব বিষয়ে জানতে ডা. আবদুল মান্নানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। এসএমএস বার্তায় বক্তব্য নেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা চাইলেও কোনও সাড়া মেলেনি।