ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প কাগজে থাকলেও বাস্তবে নেই

পুনর্বাসনের পরও ভিক্ষুক পেশায় ফিরে যাওয়া একজনবগুড়ার সোনাতলায় কাগজে কলমে ভিক্ষুক পুনর্বাসনের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার উল্টো। সুবিধা নেওয়ার পরও ১৫ ভিক্ষুক জীবন জীবিকার তাগিদে আবারও আগের পেশায় ফিরে গেছেন। এতে ওই প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৮ সালে প্রতিটি উপজেলায় ভিক্ষুক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়। সংশ্লিষ্ট উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের কাছে একদিনের বেতন নিয়ে ভিক্ষুক পুনর্বাসন ফান্ড গঠন করা হয়। সোনাতলায় উপজেলায় ৫৫৩ জন ভিক্ষুক রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ১৫ ভিক্ষুককে পুর্নবাসন করে। এদের প্রত্যেককে দু’টি করে ছাগল দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতি ভিক্ষুকের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা করে।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই উপজেলার সুবিধাভোগী ভিক্ষুকেরা সরকারি সুবিধা নেওয়ার পর আবারও জীবিকার তাগিদে আগের পেশায় ফিরে গেছেন।

সুজাইতপুর গ্রামের মোকছেদ আলীর স্ত্রী ফুলবিবি ও আবুল কাশেমের স্ত্রী জয়দন বেগম জানান, জীবন জীবিকার জন্য দু’টি ছাগল যথেষ্ট নয়। ছাগল লালন পালন করতেও পয়সার প্রয়োজন। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দিতে ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়া কোনও উপায় নেই। তাই তারা আগের পেশায় ফিরে গেছেন।

এদিকে উপজেলা প্রশাসন ১৫ জন ভিক্ষুককে দোকান, গাভী ও ভ্যানগাড়ি ক্রয় করে দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে কেউ এসব উপকরণ পায়নি বলেও জানা গেছে। এছাড়াও আরও ৯২ জন ভিক্ষুককে একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্পের আওতায় এনে সুবিধা প্রদান করা হয়েছে বলেও জানায়। সুবিধাভোগীদের সরকারিভাবে তদারকি না করায় ভিক্ষুকরা আগের পেশায় ফিরে গেছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

সমাজসেবা কর্মকর্তা সামিউল ইসলাম জানান, তিনি প্রথম পর্যায়ে তদারকি করেছেন। পরবর্তীতে ভিক্ষুকদের কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে আগের পেশায় ফিরে গেছেন বলে শুনেছেন।

এ ব্যাপারে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর আলম জানান, কেউ যদি ছাগল বিক্রি করে থাকে তাহলে সেটা দুঃখজনক। বিষয়টি তদারকির জন্য সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বয়ড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ চত্বরে একজন ভিক্ষুককে দোকান করে দেওয়া হয়েছে।