ফল ঘোষণার ৩ বছর পর পুনর্গণনা, পরাজিত প্রার্থীর ভোট বেশি




বগুড়াবগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোর ইউনিয়নে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার তিন বছর পর পরাজিত নৌকা মার্কার প্রার্থী যুবলীগ নেতা প্রভাষক আবদুর রাজ্জাকের ভোট ১০৯টি বেশি হয়েছে। সোমবার (১৫ জুলাই) বগুড়ার প্রথম সিনিয়র সহকারি জজ ও নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে ব্যালটগুলো গণনা করা হয়। বিচারক শাহাদত হোসেন আগামী ২২ জুলাই এ বিষয়ে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেছেন।

জানা গেছে, গত ২০১৬ সালের ৪ জুন ফাঁপোর ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী (মোটরসাইকেল) প্রভাষক মহররম আলী এক হাজার ৯৩৯ ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা মার্কা) প্রভাষক আবদুর রাজ্জাককে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এদিকে আবদুর রাজ্জাক এ ফলাফলের বিরুদ্ধে পুনরায় ভোট গণনার জন্য আদালতে মামলা করেন।

আদালত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হেফাজত থেকে ব্যালটগুলো জব্দ করেন। এছাড়া সেগুলো একটি বাক্সে সিলগালা করে আদালতের হেফাজতে রাখা হয়। সাক্ষী শেষে গত ১১ জুলাই ৪টি কেন্দ্র ও ১৫ জুলাই অবশিষ্ট পাঁচটি কেন্দ্রের ভোট গণনা করা হয়। এতে নৌকার প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক তিন হাজার ২৪৫ ভোট ও স্বতন্ত্র মোটরসাইকেল প্রার্থী মহররম আলী তিন হাজার ১৩৬ ভোট পেয়েছেন। এতে দেখা যায় আবদুর রাজ্জাক ১০৯ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ফাঁপোর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মহররম আলী দাবি করেন, ৯ কেন্দ্রের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুর রাজ্জাক শুধু একটি কেন্দ্রে ১১ ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। অন্য ৮ কেন্দ্রে বিপুল ভোটে আমি জয়লাভ করি।

তার অভিযোগ, জালিয়াতির মাধ্যমে জব্দ করা ব্যালটের মধ্যে আবদুর রাজ্জাকের ব্যালট ঢোকানো হয়েছে। কোনও কোনোটিতে নির্বাচনি কর্মকর্তার স্বাক্ষর নেই; প্যাকেটে সিলগালা নেই। রায় ঘোষণার পর তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আবদুর রাজ্জাকের আইনজীবী আল মাহমুদ জানান, জব্দ করা ব্যালট আদালতের হেফাজতে ছিল। তাই এখানে জালিয়াতির কোনও সুযোগ নেই। আদালতে প্রকাশ্যে গণনা করে আবদুর রাজ্জাক ১০৯ ভোট বেশি পেয়েছেন। আগামী ২২ জুলাই এ মামলার যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আদালত রায় ঘোষণা করবেন।