গত শুক্রবার সকালে জানা গেছে, যমুনার ভাঙনের শিকার এলাকাগুলো হলো, সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের খাবুলিয়া, আউচারপাড়া, মহব্বতেরপাড়া, সরলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া ও মহেশপাড়া। এলাকাগুলোর দুই শতাধিক বাড়িঘর ভাঙনের শিকার হয়েছে। তাদের অনেকে ঘরবাড়ি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। অনেকে পার্শ্ববতী বগুড়ার শিবগঞ্জ ও গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করছেন।
অন্যদিকে ভাঙনের কারণে সোনাতলার আউচারপাড়া ও খাবুলিয়া গ্রামের শতাধিক বাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোনও সময় এসব বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ওই এলাকার বাসিন্দা শামছুল আলম (৭০), ইয়াকুব আলী (৯০), লোকমান মিয়া (৬৫), জরিনা বেওয়া (৯৫) বলেন, ‘প্রতিবছরই বন্যার পর নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এবার নদীভাঙনে অনেক মানুষ এলাকা ছাড়া হয়েছে। আমাদের বাড়িঘরও নদীর তীরে এসে দাঁড়িয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনের বেলা কোনোরকম কাটলেও রাতে ঘরে মন বসে না। নদীগর্ভে কখন ঘরবাড়িসহ নিজের জীবনটাও চলে যায় এ নিয়ে আতঙ্কে থাকি।’
এ ব্যাপারে সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শামছুল হক জানান, প্রতিবছরই এই এলাকার মানুষের বাড়িঘর, গাছপালা ও ফসলি জমি যমুনার গর্ভে চলে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, নদীভাঙন রোধ করা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। বন্যার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’