ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ২০২১-২০২৩ সালের মধ্যে ৫-জি চালু করার কথা রয়েছে। কিন্তু আমরা ২০২১ সালের আগেই ৫-জি চালু করতে পারবো। হয়তো আপনারা দেখবেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিটিসিএল ও টেলিটক সবার আগে ৫-জি চালু করেছে।’
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজশাহী নগরীর সুলতানাবাদ নিউমার্কেটে টেলিটকের এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি একথা বলেন।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা যেমন সব মানুষকে ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি, একইভাবে আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সবার ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করছি। ইতোমধ্যে আমরা ২২ হাজার পর্ন সাইট ও দুই হাজার জুয়ার সাইট বন্ধ করেছি। প্রতিদিন জঙ্গিবাদ ও গুজব বন্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
এর আগে এদিন দুপুরে রাজশাহীতে পোস্টাল একাডেমিতে বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ৬৮তম ফাউন্ডেশন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রযুক্তি সর্বদা পরিবর্তনশীল। তাই কর্মজীবন ও পরিবর্তন—একসঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে না পারলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব। সামনের দিনগুলো শুধু ইন্টারনেট ও ব্রাউজিং করার দিন নয়, আরও আধুনিক প্রযুক্তির যুগ। আমরাই প্রথম দেশের নামের সঙ্গে ডিজিটাল শব্দ ব্যবহার শুরু করি। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে শুধু গতানুগতিক প্রশিক্ষণ বা শিক্ষাগ্রহণ করলেই হবে না, অর্জিত জ্ঞানকে পেশাগত জীবনে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে অবজ্ঞা করা হয়েছিল, সে বাংলাদেশ এখন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অন্য দেশের কাছে ঈর্ষণীয়। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল ছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর সময়। বাংলাদেশের বর্তমান যে অর্জন তা প্রমাণ করে, পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়া বাংলাদেশের জন্য এক পরম পাওয়া। বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। এ ধারা অব্যাহত রেখে তরুণ প্রজন্মকে প্রজাতন্ত্রের সেবায় নিয়োজিত হতে হবে।’ পরে মন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন।
এসময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।