পাবনায় পদ্মার পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি

01উজান থেকে প্রবল বেগে পানি ধেয়ে আসার কারণে পাবনায় পদ্মার পানি যেকোনও সময় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। ইতোমধ্যে পদ্মার পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থা। আর প্রবল স্রোতে ও অতিরিক্ত পানির ফলে পদ্মার তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৫শ’ হেক্টর ফসলি ও নিচু জমি প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পাবনার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সানজানা নাজ বলেন, ‘পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীস্থ পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে (৩০ সেপ্টেম্বর) সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার। নদীতে যে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেটা বর্তমানে পরিমাপের পরিসংখ্যানই জানান দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিনই পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে ৫/৬ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
সানজানা নাজ আরও বলেন, ‘ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির বিপদসীমার মাত্র আট সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আগামী দুই-একদিনের মধ্যে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
02স্থানীয় সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রানা সরদার বলেন, এবারে যেভাবে পদ্মায় পানি বাড়ছে, গত কয়েক বছরে সে পরিমাণ পানি ছিল না।
তিনি বলেন, কোমরপুর থেকে সাঁড়াঘাট পর্যন্ত নদীরক্ষা বাঁধের তিন থেকে চার ফুট নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস জানান, তার ইউনিয়নের রূপপুর সড়কের নিচু অংশে ফসলসহ জমি তলিয়ে গেছে। প্রতিদিনই পাকশীর বিভিন্ন স্থানে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে ফসলি জমি। তবে এখন পর্যন্ত কোনও বসতভিটার ক্ষতি হয়নি।
03ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, উপজেলার সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের আখ, ফুলকপি, গাজর, মাষকলাই, মুলা, বেগুন, শিম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, ধানসহ ৪০০ হেক্টর জমির সবজি ও ফসল তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে লক্ষ্মীকুণ্ডার দাদাপুর, চরকুরুলিয়া, কামালপুর ও বিলকেদায়। মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক জরিপে এ তথ্য জানা গেছে। তবে পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বলা যাচ্ছে না।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘যে গতিতে পানি বাড়ছে, তাতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে। পদ্মার গুরুত্বপূর্ণ বাঁধগুলোতে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।’
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মায় যে হারে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা নদী তীরবর্তীসহ আশপাশের জনমানুষের জন্য অশনিসংকেত। বৃহৎ ক্ষতির আগেই সরকারিভাবে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করেই প্রস্তুত থাকতে হবে।