জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে যানজট দূর করাসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে জয়পুরহাট-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণসহ পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৬৪ কোটি টাকা। সড়কটির বগুড়ার মোকামতলা থেকে জয়পুরহাট পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার এ প্রকল্পের আওতায় আসে। এর মধ্যে মোকামতলা থেকে জয়পুরহাটের হারাইল পর্যন্ত সাড়ে ২৮ কিলোমিটার সড়ক ১৮-২৪ ফুট প্রশস্ত করা ও হারাইল থেকে রেলঘুমটি পর্যন্ত শহরের আড়াই কিলোমিটার অংশ ৬০ ফুট প্রশস্ত করে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়।
২০১৭ সালে একনেকের বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর দরপত্রের মাধ্যমে তিনটি প্যাকেজে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৭ সালে ২৪ ডিসেম্বর ও ২০১৮ সালের ২৭ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ দেওয়ার দেড় বছরের মধ্যে চার লেন সড়ক সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এর কোনও অগ্রগতি হয়নি।
সওজের দাবি, অর্থের কারণেই কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। চার লেন সড়কের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ২৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও গেজেট সংশোধন করে ক্ষতিপূরণ বাড়িয়ে তিন গুণ করার পাশাপাশি জমির মূল্য বেড়ে গেছে। ফলে চার লেন সড়ক বাস্তবায়নে অতিরিক্ত আরও ৬০ কোটি টাকার প্রয়োজন। তাই প্রকল্পটি সংশোধন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। যা একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্র চার লেনের কাজ শুরু করা হবে।
সওজের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, চার লেনের সড়কটি হবে ৬০ ফুট প্রশস্ত। এক পাশে ২৪ ফুট এবং অপর পাশে ২৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক। মাঝখানে থাকবে ৪ ফুট প্রশস্ত আইল্যান্ড এবং পুরো সড়কের দুই পাশে থাকবে ড্রেনসহ ৪ ফুট করে ৮ ফুটের ফুটপাত।
সূত্র জানায়, কার্যাদেশ দেওয়ার পর প্রকল্পটির দুই পাশে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ২৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। তারা কাজও শুরু করেন। তবে বেশ কিছু ভূমি মালিক এতে আপত্তিও জানিয়েছিলেন। যেগুলি আইনগতভাবে মোকাবিলাও করা হয়েছে। কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। কিন্তু মাঝপথে থেমে যায় সবকার্যক্রম। দীর্ঘদিন পরও চার লেনের কাজ শুরু না হওয়ায় মানুষ ধরেই নিয়েছেন এই কাজ আর হচ্ছে না। অথচ জয়পুরহাট শহরের সড়কটি চার লেনে উন্নীত হচ্ছে এমন সংবাদ জানার পর মানুষ যুগোপযোগী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে জয়পুরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আ.স.ম মোক্তাদির তিতাস বলেন, ‘এক সড়কের শহর জয়পুরহাট। প্রতিদিন নানা ধরনের যানবাহন যাতায়াত করে এই সড়ক পথে। অফিস সময়ে যানজট এতটাই তীব্র হয় যে হেঁটেও যাওয়া যায় না। এ অবস্থায় সড়কটি চার লেনে উন্নীত হচ্ছে জেনে খুবই খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখনতো দেখছি সবই ফাঁকা বুলি। কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত মানুষ আর বিশ্বাস করতে চায় না যে সড়কটি চার লেনে উন্নীত হবে।’
কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ঢাকঢোল পিটিয়ে চার লেন কাজের উদ্বোধন হলো। এরপর মাসের পর মাস চলে যাচ্ছে কোনও খবর নেই। অথচ জয়পুরহাট শহরের গুরুত্বপূর্ণ একমাত্র সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি। আমরা সেই শুভক্ষণ দেখার অপেক্ষায় আছি।’
জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোস্তাকিম ফাররোখ বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে ১২টা এবং রাত ৮টার পর থেকে যানজটের কারণে জয়পুরহাট শহরে চলাচল করা যায় না। ট্রাক-বাসের পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। রাজশাহী, নওগাঁ এবং দিনাজপুরের যানবাহনও চলাচল করে এই সড়কে। সড়কটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা গেলে মানুষ বিড়ম্বনা থেকে রেহায় পাবে।’
জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর সিদ্দীক বলেন, ‘জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের জয়পুরহাট অংশের কাজ অনেক এগিয়েছে। চার লেনের কাজও আটকে আছে শুধু একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়। আশা করছি এ মাসেই অনুমোদন হবে। অনুমোদন হলেই চার লেন কাজের আর কোনও বাধা থাকবে না।’