জোর করে রাবি শিক্ষার্থীর জিডি সংশোধনের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

জিডির সংশোধিত কপিনিরাপত্তা চেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী আব্দুল মজিদ অন্তরের করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) জোর করে পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে প্রেস ব্রিফিং করে এ দাবি করেন অন্তর।

তিনি বলেন, ‘উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রলীগের নেতারা বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এজন্য সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে নিরাপত্তা চেয়ে মতিহার থানায় একটি জিডি করি। তারপর থেকে আমার কাছে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসতে থাকে জিডি উঠিয়ে নেওয়ার জন্য। একপর্যায়ে মতিহার থানা থেকে আমকে ফোন দিয়ে দ্রুত থানায় যেতে বলা হয়। কিন্তু আমি রাতে একা থানায় না যেতে চাইলে পুলিশ আমার অবস্থান জানতে চায় এবং গাড়ি দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে।’

অন্তরের অভিযোগ, “আমি প্রক্টর স্যারকে কল দিয়ে সমস্যার কথা জানালে তিনি বলেন, ‘তোমার যা খুশি কর, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না’।”

জিডির প্রথম কপিতিনি আরও বলেন, পরে সহকারী প্রক্টরকে কল দিলে তিনিও কোনও ঝামেলায় জড়াতে চান না বলে জানান। রাত ১১টার দিকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক জিডির ভাষা পরিবর্তন করে।প্রশাসনের বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ ছিল মিথ্যা ও বানোয়াট এভাবে লিখে নতুন ডায়েরিভুক্ত করে।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে থানা গিয়ে দেখা যায়, অন্তর ১৩ অক্টোবর ৫.৫০ মিনিটে একটি জিডি করেন। যার নম্বর ৫৮৭। ওই দিনই সন্ধ্যা ৬.৫৫ তিনি ওই জিডি সংশোধন করেন, যার নম্বর ৫৯০। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আজ সন্ধ্যায় মতিহার থানায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে একটি জিডি করি। জিডিতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রাবি প্রশাসনিক দুর্নীতি ও প্রক্টরের বিরুদ্ধে আনা হুমকির বিষয়টি ছিল মূলত ভিত্তিহীন এবং গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তুলে নেওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে তারা গোয়েন্দা সংস্থার লোক ছিল না। বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করা হল।’

প্রেস ব্রিফিং করছেন অন্তর

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ডিউটি অফিসার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজল রেখা বলেন, ‘আমি আজ (সোমবার) সকাল ৮টার থেকে ডিউটিতে আছি। এর আগের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।’

 এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘অন্তর আমাকে রাতে ফোন করে। কিন্তু আমি ওই সময় রিসিভ করতে পারিনি। পরে আমি নিজে ফোন করলে অন্তর জানায় সে থানায় জিডি করেছে। এরপর আমি বলি, তুমি যা ভালো মনে করো তাই করো।এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’

আরও পড়ুন:

নিরাপত্তা চেয়ে রাবি শিক্ষার্থীর থানায় জিডি