নিহত আলাল হোসেন কাহালু উপজেলার ঢাকন্তা গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে এবং আটক যতন কুমার শাজাহানপুর উপজেলার খরনা কর্মকারপাড়ার সন্তোষ কুমারের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলাল উপজেলার মুরইলে আফরিন জুট মিলে শ্রমিকের কাজ করতো। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে সহকর্মী যতন মেশিন পরিষ্কার করার হাওয়া মেশিনের পাইপ আলালের পায়ুপথে ঢুকিয়ে হাওয়া দেয়। এতে পেট ফুলে আলাল অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ৩টার দিকে মারা যায় আলাল।
শজিমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, পায়ুপথে হাওয়া ঢুকানোয় তার পেটের নাড়িভুঁড়ির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে হার্টফেলে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
ওসি লতিফুল ইসলাম জানান, আলালের মৃত্যুর পরপরই অভিযুক্ত যতনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যতন স্বীকার করেছে, সে দুষ্টুমির ছলে এ কাজ করেছে। আলালের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর আগে ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জোবেদা টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলে ১০ বছরের শিশু শ্রমিক সাগর বর্মণকে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মহজমপুরে বিআর স্পিনিং মিলে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয় শিশু শ্রমিক মো. ইয়ামিনকে (১৬)। এছাড়া ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে মোটরগ্যারেজ শ্রমিক রাকিব হাওলাদারকে খুলনা শহরের টুটপাড়ায় একটি গ্যারেজে মলদ্বারে নল দিয়ে হাওয়া ঢোকালে সে মারা যায়।