জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার জানান, জেলায় ৬৯ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ জাতের উচ্চফলনশীল ধান ছাড়াও রয়েছে স্থানীয় জাতের মধ্যে কালোজিরা, দুধসর, চিনি আতপ ও কাটারিভোগ ধান।এছাড়া সিম, মুলা, বরবটি, আগাম জাতের টমেটো ও ফুলকপির চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও পেঁয়াজের আবাদও হয়েছে।
হঠাৎ বর্ষণে জেলার অধিকাংশ ধানের ও সবজি ক্ষেতে পানি জমে গিয়েছে। পানি কমতে শুরু করায় কিছু জমির ধান হেলে পড়লেও তেমন কোনও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন না কৃষি বিভাগ।
সদর উপজেলার ভাটোদাঁড়া গ্রামের কৃষক ওমর আলী জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে শম্পা, ব্রি ২৯, নেপালি স্বর্ণা ও ধানি গোল্ড রোপণ করেছেন। গত তিন দিনের বর্ষায় পম্পা এবং ব্রি ২৯ পাকা ধান জমির মধ্যে হেলে পড়েছে।
তার দাবি, বৃষ্টি না হলে এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি শম্পা ও ব্রি ২৯ ধান কাটতে পারতেন। এখন ধান কাটা এক সপ্তাহ পিছিয়ে যেতে হবে। এছাড়া হেলে পড়া ধান কেটে ঘরে তুলতে খরচও দ্বিগুণ পড়বে। ধান কাটতে দেরি হলে রবিশস্য চাষাবাদ বিলম্ব হবে।এছাড়া যে ধানগুলো এখনও পোক্ত হয়নি সেগুলো চিটা হওয়ার শঙ্কা করছেন।
লালপুর উপজেলার কৃষক আলা উদ্দিন জানান, তিনি একবিঘা জমিতে টমেটো এবং আরেক বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। শীতকালীন আগাম সবজি বিক্রি করে লাভ করবেন আশা করেছিলেন। হঠাৎ বর্ষণে জমি ডুবে গেছে। খরচ হওয়া টাকা ওঠাতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার জানান, হঠাৎ বর্ষণে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। আবার কিছু কিছু সবজি এবং ধানের ফলন এই বৃষ্টির কারণে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বর্তমানে যেমন আবহাওয়া রয়েছে এমন আবহাওয়া চলতে থাকলে জলাবদ্ধতা কমে পানি শুকিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কৃষকদের খুব বেশি শঙ্কার কারণ নেই।