ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে ভিড় বিআরটিএতে, দোকানে দোকানে ধুম হেলমেট বিক্রির

বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে ভিড় (ছবি– প্রতিনিধি)

গাড়ি চালানোর অনুমতি (ড্রাইভিং লাইসেন্স) পেতে এবং যানবাহনের কাগজপত্র নবায়ন করতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির বগুড়া কার্যালয়ে আবেদন বেড়েছে। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর হওয়ার পর এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে হেলমেট কিনতে দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে বাইক চালকদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইন্সুরেন্স কোম্পানির কার্যালয়ে থার্ড-পার্টি ইন্সুরেন্স সনদ বিক্রিও বেড়েছে।

গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) থেকে বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর হয়েছে। এ আইনে সাজা ও জরিমানা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ফিটনেস সনদ না থাকলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি নতুন আইনে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে। আগে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ফিটনেস সনদ না থাকার জরিমানা ছিল ৫০০ টাকা।

বগুড়া বিআরটিএ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে ভিড় করেছেন হালকা যানবাহন চালক ও মালিকেরা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংক-ফি জমা দিচ্ছেন তারা। অনেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ব্যাপারে তথ্য নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বগুড়া বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইনে জরিমানার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহনের লাইসেন্স পেতে ভিড় বেড়েছে। গত অক্টোবর মাসে একহাজার ৫৬৮টি শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন পড়ে। নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর ৩-৬ নভেম্বরের মধ্যে আট শতাধিক আবেদন পড়েছে। মোটরসাইকেলের ৩৪৫ টাকা ও হালকা যানবাহনের জন্য ৫১৮ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন যানবাহনের মালিকরা তথ্য নিতে ভিড় করছেন।

দোকানে দোকানে হেলমেট বিক্রির ধুম (ছবি– প্রতিনিধি)

বিআরটিএ বগুড়া অফিসের কর্মকর্তা সেলিম হোসেন জানান, গাড়ি চালানোর অনুমতি পেতে অফিসে এসে নিজ হাতে আবেদন ফরম পূরণ করছেন হালকা যানবাহনের মালিক-চালকেরা। অনলাইনেও আবেদন করা যাচ্ছে। অন্তত অর্ধেক আবেদন পড়ছে অলাইনে। অফিসে আসা লোকজন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকের বুথে টাকা জমা দিচ্ছেন।

এদিকে, জনগণ লাইসেন্স তৈরি ও হালনাগাদ করার পাশাপাশি হেলমেট কিনতে দোকানে দোকানে ভিড় করছেন বাইক চালকেরা।

বগুড়ার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম খান রেজা জানান, হেলমেট ব্যবহার না করলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা তিন মাসের কারাদণ্ড বা উভয়দন্ড হতে পারে। শুধু বাইক চালক নয়; অন্য আরোহীকেও হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে আরোহীও একই দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তিনি আরও জানান, নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া অনেকে যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকছেন। রাস্তায় মোটরসাইকেলের সংখ্যা অনেক কমেছে।

‘সোনালী মোটরস’-এর মালিক আল-আমিন জানান, আগে দিনে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০টি হেলমেট বিক্রি করতেন। এখন প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০টি হেলমেট বিক্রি হচ্ছে। তার দোকানে ৮০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের হেলমেট রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ১০ হাজার টাকা মূল্যের হেলমেট ব্যবহার করলে বড় দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা জানান, তারা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট বিতরণ করছেন। নতুন আইন সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন।