উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ ত্রুটিপূর্ণ সিগন্যাল

উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা

ত্রুটিপূর্ণ ও ব্যাকডেটেড সিগন্যাল ব্যবস্থার কারণেই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া স্টেশনে ঢাকা-রংপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে বলে দাবি করছে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি খুব শিগগিরই তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রেলমন্ত্রণালয়, রেল অধিদফতর ও পশ্চিমাঞ্চল রেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠবে বলে জানিয়েছে।

কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদ গত বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এছাড়াও সিগনালটি দ্রুত সংস্কার বা আপটুডেট করা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। তা না হলে আগামীতে আবারও দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দাখিল প্রতিবেদনে স্পষ্টতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ত্রুটিপূর্ণ ও ব্যাকডেটেড সিগন্যাল ব্যবস্থার কারণেই সেদিন ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত কমিটির মতে সিগন্যাল দেওয়ার পর ‘স্টকলাইন বা মেইন রেলপথ’ ও ‘ট্যাং রেল’ দুটি লক বা এক সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা থাকলেও মাঝখানে যথেষ্ট পরিমাণ ফাঁকা ছিল। যে কারণে দ্রুতগামী ট্রেনটির ইঞ্জিন বা বগিগুলো লাইনচ্যুত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফাঁকা না থাকলে লাইনচ্যুত হয়ে ট্রেনটি দুর্ঘটনা কবলে পড়তো না বলে দাবি তদন্ত কর্মকর্তাদের।

তিনি আরও জানান, সিগনালে ‘গ্রিনব সিগন্যাল’ দেখানো হয়েছে। সিগন্যালের সঙ্গে বাস্তবের মিল না থাকার কারণে ট্রেনটি টু-রোডস হয়ে যায়। এ কারণে ট্রেনটি মেইন লাইনে না গিয়ে লুপ লাইনে ঢুকে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে সিগন্যাল ব্যবস্থাটি ২০০৩ সালের এবং ব্যাকডেটেট বলে জোড়ালোভাবে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর দুপুরে ঢাকা-রংপুরগামী রংপুর আন্তঃনগর ট্রেনের ইঞ্জিন ও ৭টি বগি উল্লাপাড়া স্টেশনে লাইনচ্যুত হয়। ইঞ্জিন ও এসি বগিতে প্রথমে আগুন ধরে পরে ছড়িয়ে যায় আরও ৩ টি সাধারণ বগিতে। এসময় হড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে ২৫ জন আহত হয়েছেন। রেল মন্ত্রণালয়, পশ্চিমাঞ্চল রেল রাজশাহী ও পাকশীসহ স্থানীয় জেলা প্রশাসনের ৪টি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত সম্পন্ন হলেও বাকীগুলো এখনও সম্পন্ন হয়নি বা জমা পড়েনি বলে রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।