সরকারি ধান ক্রয়, অ্যাপের’ মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন ৭৭১ জন কৃষক

নওগাঁ লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হচ্ছে

চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁ সদর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ‘কৃষকের অ্যাপ’ নামে ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে লটারি করে ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। লটারিতে ৭৭১ জন কৃষক নির্বাচিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় উপজেলা হল রুমে সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি নওগাঁ সদর এ লটারির আয়োজন করে। কৃষক নির্বাচনের এ লটারিগুলো তুলেন সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ রফিকুল ইসলাম রফিক, ভাইস চেয়ারম্যান ইলিয়াস তুহিন রেজা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্মল কৃষ্ণ, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুবুল হক কমল, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার এ কে এম মফিদুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, সদর খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাজের হাসান, সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আতিকুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে ১৩ হাজার ৫০৬ জন নিবন্ধন করলেও আবেদন করেছেন ৬ হাজার ৯২৬ জন। এর মধ্যে থেকে লটারির মাধ্যমে ৭৭১ জন কৃষক নির্বাচিত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবছর ২৬ টাকা কেজি দরে এক হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন। এর মধ্যে বড় ৮৩ জন, মাঝারি ১৮৭ জন ও ক্ষুদ্র কৃষক ৫০১ জন। লটারিতে যাদের নাম উঠবে তাদের মোবাইলে সরাসরি এসএমএস চলে যাবে।

নওগাঁ জেলার মধ্যে সদর উপজেলায় প্রথম বারের মতো ‘কৃষকের অ্যাপ’ এর মাধ্যমে ধান কেনা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই অ্যাপ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন অ্যানড্রয়েন মোবাইল। কিন্তু অধিকাংশ কৃষক অ্যানড্রয়েন মোবাইল ব্যবহার করতে পারে না। তাই নিবন্ধন করতে গিয়ে তারা বিড়ম্বনায় পড়েছে। এছাড়াও কার্ডধারী কৃষক ছাড়া নিবন্ধনের কোনও সুযোগ নেই।

উপজেলার বর্ষাইল গ্রামের কৃষক রমজান আলী জানান, তার সাড়ে ৬ বিঘা আবাদি জমি আছে। তার কৃষি কার্ড আছে। এরপরও কোনও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। গত বোরো মৌসুমে লটারিতে নাম না উঠায় গুদামে ধান দিতে পারেননি। এবার আমন মৌসুমে যে অ্যাপসের মাধ্যমে ধান কেনা হবে তা তার জানা ছিল না। নিবন্ধন হওয়ার কয়েকদিন পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। এছাড়াও অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধন ও আবেদন প্রক্রিয়া জটিল। সব কৃষকের পক্ষে অ্যাপস ব্যবহার করা সম্ভব না।

নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার এ কে এম মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবছরই প্রথম অ্যাপসের মাধ্যমে আমন ধান বিক্রির আবেদন করছে কৃষক। আবেদন করার পর লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। এবার নিবন্ধিত কৃষকদের মধ্যে অর্ধেক কৃষক আবেদন করেছেন। যারা আবেদন করেননি তাদের ঘরে হয়তো ধান নেই।’

নওগাঁ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাজের হাসান বলেন, ‘লটারিতে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের কাছে সরাসরি এসএমএস চলে যাবে। কৃষকরা  এসএমএস পাওয়ার পর যে কোনও সময় গুদামে ধান দিতে পারবেন।’

উল্লেখ্য, জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে শুধু সদর উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’ এর মাধ্যমে আমন ধান সংগ্রহ করা হবে। গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ নিবন্ধন ও আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।