বগুড়ার শিবগঞ্জে ছয় বছরের শিশু সাদিয়া আকতার হত্যা রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ধর্ষণের পর ঘটনা ফাঁস হওয়ার ভয়ে আপন চাচাতো ভাই ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্র নাইম হোসেন (১৪) তাকে চাকু দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার পাকুরতলা গ্রাম থেকে গ্রেফতারের পর নাইম পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। স্বীকারোক্তি রেকর্ডের জন্য শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে তাকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, শিশু সাদিয়া আকতার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের তালিবপুর পূর্বপাড়া গ্রামের দিনমজুর শাহিনুর রহমানের মেয়ে। সে স্থানীয় কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়তো। সাদিয়া বুধবার বিকালে খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫শ গজ দূরে একটি আলু ক্ষেতে তার গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে শিশুর বাবা শাহিনুর রহমান শিবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর সনাতন সরকার বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাথে সাদিয়ার আপন চাচাতো ভাই একই গ্রামের নান্নু প্রামানিকের ছেলে নাইম হোসেন জড়িত। সে স্থানীয় দেউলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বগুড়া ডিবি পুলিশের বৃহস্পতিবার রাতে শিবগঞ্জের পাকুরতলা গ্রাম থেকে নাইমকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে নাইম আরও জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সে তার চাচাতো বোন সাদিয়াকে বাড়ির কাছে একটি আলুক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে সে তাকে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। সাদিয়া ঘটনাটি ফাঁস করে দিতে পারে এ ভয়ে চাকু দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি রেকর্ড করতে শুক্রবার বিকালে কিশোর নাইম হোসেনকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আদালত বসেনি।