হাতে মেহেদি, গায়ে গহনা, পরনে লাল বেনারসি, দেহটাই শুধু নিথর

উদ্ধার করা সুইটির মৃতদেহপদ্মা থেকে যখন নববধূ সুইটি খাতুন পুর্ণিকে উদ্ধার করা হয় তখন সবই ঠিকঠাক ছিল।  হাতে মেহেদি, গায়ে গহনা, পরনে লাল বেনারসি। শুধু দেহটাই নিথর। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে পবা উপজেলার শ্যামপুর ঘাট থেকে সুইটির লাশ উদ্ধার করেন জেলেরা।

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এ নিয়ে উদ্ধার করা হলো ৯ জনের লাশ। আর কেউ নিখোঁজ না থাকায় চারদিন পর উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

উদ্ধার করা সুইটির মৃতদেহঅতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এবং উদ্ধার অভিযানের সমন্বয়ক আবু আসলাম বলেন, সুইটি সাঁতার জানতো। কিন্তু ভারী কাপড়-চোপড়  আর গহনা পরে থাকায় সে পানিতে তলিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে শ্যামপুর ঘাটে সোমবার সুইটির লাশ ভেসে ওঠে। লাশটি জেলেরা উদ্ধার করে দমকল কর্মীদের খবর দেয়। পরে তারা গিয়ে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একইসঙ্গে উদ্ধার অভিযানও সমাপ্ত করা হয়।

উদ্ধার করা সুইটির মৃতদেহ

শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় বউভাতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পদ্মার চরের খানপুর এলাকা থেকে দু’টি নৌকায় করে পবা উপজেলার ডাইঙ্গেরহাটের উদ্দেশে রওনা দেয় যাত্রীরা। চরখিদিরপুর ও শ্রীরামপুর এলাকার মাঝ পদ্মায় দু’টি নৌকা ডুবে যায়। এরপর যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায় দমকল, বিজিবি, নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লুটিএ ডুবুরি দল। উদ্ধার করা হয় ৯ জনের লাশ। সর্বশেষ উদ্ধার হলো সুইটির লাশ। নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেন জেলা প্রশাসন।

নৌকাডুবিতে নিহতরা হলেন, সুইটি খাতুন পুর্ণি, তার দুলাভাই রতন আলী (৩০), ভাগনি মরিয়ম খাতুন (৫), চাচা শামীম হোসেন (৩৫), চাচি মিনা খাতুন (৩০), চাচাতো বোন রশ্নি (৭), খালাতো ভাই এখলাস আলী (২২),ফুপাতো বোন রুরাইয়া খাতুন স্বর্ণা (১২) ও খালা আঁখি খাতুন (২৫)।