বগুড়ার নাগর নদে নেই সেতু, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোয় পারাপার

Bogura-24-08-20-Picture-03বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের ধাপ-সুখানগাড়ী এলাকার নাগর নদের ওপর দীর্ঘদিনে সেতু নির্মাণ হয়নি। তাই দুপচাঁচিয়া ও কাহালু উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করেন। এতে কৃষিপণ্য বহন, অসুস্থ রোগী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। বর্ষা আসলে এই এই দুর্ভোগ হয় দ্বিগুন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপচাঁচিয়া উপজেলার ধাপ-সুখানগাড়ী ও গোসারবাগপাড়া এলাকায় নাগর নদের ওপর স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। এই সাঁকো দিয়ে শুধু এ উপজেলার নয়, পার্শ্ববর্তী কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। জিন্নাহ পাড়া, আটালিয়া, জাঙ্গালপাড়া ও গোসারবাগ পাড়ার জনগণ তাদের দৈনন্দিন কাজে এবং তাদের সন্তানরা পৌর এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। হাট-বাজার ও চিকিৎসালয়ে যেতে হয় এই সাঁকো পার হয়ে।

ওই সাঁকোর পাশেই দুপচাঁচিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধাপ-সুলতানগঞ্জ হাট। হাট বারে ওই গ্রাম ছাড়াও কাহালু, শিবগঞ্জ, কালাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের জনগণ সাঁকো পেরিয়ে হাটে কেনাবেচা করতে আসেন। কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে যান।

জিন্নাহপাড়ার ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক, গোসারবাগপাড়ার কৃষক রকিব উদ্দিন, শিক্ষার্থী সাকিব আহমেদ, কাহালুর বীরকেদার গ্রামের শিক্ষক রমজান শেখ প্রমুখ জানান, নাগর নদের ওপর দীর্ঘদিনে সেতু নির্মাণ হয়নি। ভোট এলে কেবল জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেয়। পরে আর খোঁজ থাকে না। তাই স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়ণে নির্মিত সাঁকোই এখন ভরসা। তবে ভরা বর্ষায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। তখন তাদের ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হয়। তারা অবিলম্বে সাঁকোর স্থলে আরসিসি সেতু নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কাহালুর বীরকেদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের মানুষ এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্নস্থানে যাতায়াত করে। এখানে একটি সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। তিনি এই ব্যাপারে স্থানীয় সরকারের প্রকৌশল অধিদফতরের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলম জানান, নাগর নদের ওপর জনগুরুত্বপূর্ণ পৃথক স্থানে দুটি সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন এলে টেন্ডার আহ্বান করে দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হবে।