মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন: শিক্ষক গ্রেফতার

পাবনায় কৃষক সমিতির নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যাপাবনার ঈশ্বরদীতে মোবারক হোসেন (১১) নামে মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে শিকল দিয়ে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ মামলার অভিযুক্ত আসামি শিক্ষক পিয়ারুল ইসলামকে গ্রেফতার করে রবিবার (১১ অক্টোবর) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসির উদ্দিন জানান, ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া বুড়া দেওয়ান নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় নূরানী বিভাগের শিক্ষার্থী মোবারক হোসেনকে (১১) তিন দিন লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায় শিক্ষক পিয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটির বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক পিয়ারুল ইসলামকে আসামি করে শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ হেফাজতে থাকা শিক্ষক পিয়ারুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়। রবিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, জেলার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের বাচামারা গ্রামের নজরুল ইসলামের শিশুপুত্র মোবারক হোসেনকে পাশের ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া বুড়া দেওয়ান নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর মাঝে মধ্যে মারধর করা হয় তাকে। মারপিটের ভয়ে মোবারক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে খালার বাড়ি চলে যায়। সেখান থেকে তার আত্মীয় স্বজনরা বুঝিয়ে আবার মাদ্রাসায় রেখে যান। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে মোবারককে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও করা হয়। এমনকি মাটিতে থুথু ফেলে সেই থুথু চাটানোও হয়েছে শিশুটিকে দিয়ে। গত শুক্রবার জুম্মা নামাজের সময় সুযোগ বুঝে মোবারক আবার পালিয়ে যাওয়ার সময় শিকল বাঁধা দেখে স্থানীয়রা তাকে আটকিয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে শিশু মোবারককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তার মা মুর্শিদা খাতুন থানায় এসে শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে যান।