জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘বেড়া পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন উপজেলার কাজিরহাট ও নগরবাড়িঘাটের ইজারা সংক্রান্ত একটি লিখিত রেজুলেশন ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে অনুমোদনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি নীতিমালা বহির্ভূত হওয়ায় ইউএনও তা অনুমোদনে অস্বীকৃতি জানালে মেয়র বাতেন তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলকে জানিয়েছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
সভায় উপস্থিত একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাজিরহাট ও নগরবাড়িঘাট সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার একটি লিখিত সিদ্ধান্তের রেজুলেশন অনুমোদন দিতে মেয়র আব্দুল বাতেন ইউএনওকে চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি মেয়রের এখতিয়ার বহির্ভূত এবং বিধিসম্মত না হওয়ায় তা অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান ইউএনও। এ সময় পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন চরম উত্তেজিত হয়ে ইউএনওকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে ইউএনওকে ধাক্কা দিয়ে মারতে গেলে সভায় উপস্থিত অন্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে সভাটি পণ্ড হয়ে যায় এবং ওই সভায় উপস্থিত সবাই হতভম্ব হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পৌর মেয়র আব্দুল বাতেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন বেড়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন, পুরান ভারেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল্লাহ, জাতসাকিনী ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু, রূপপুর ইউপি চেয়ারম্যান উজ্জ্বল হোসেন, আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেমসহ উপজেলার সরকারি দফতর প্রধানেরা।
প্রসঙ্গত, বেড়া পৌর মেয়র আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এক ইউপি চেয়ারম্যানের চাল চুরির ঘটনায় তার পক্ষে তদবির করায় দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগ তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।