শহীদ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে কোনও রকমে ইটের প্রাচীর দিয়ে বধ্যভূমিটি ঘিরে রেখেছেন মাত্র। কিন্তু এটি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে আগামী প্রজন্মের কাছে নতুন করে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনার দ্রুত বাস্তবায়ন চান শহীদ পরিবার ও স্থানীয়রা।
নারকীয় ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েও বেঁচে যাওয়া আতাইকুলা গ্রামের প্রদ্যুত চন্দ্র পাল, সাধন চন্দ্র পাল ও নিখিল চন্দ্র পাল ওই দিনের করুণ হত্যাযজ্ঞের কাহিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে বর্ণনা করেন, ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল রোজ রবিবার সকাল ১০টায় ছোট যমুনা নদী পার হয়ে আসে একদল হানাদার বাহিনী। মুক্তিযোদ্ধারা এই গ্রামে আছে বলে তারা সন্দেহ করে প্রথমে গ্রামটিকে ঘিরে ফেলে। এরপর প্রতিটি বাড়ি থেকে নগদ টাকা স্বর্ণালংকাসহ বাড়ির নারী-পুরুষকে ধরে নিয়ে ওই গ্রামের বলরাম চন্দ্রের বাড়ির উঠানে নিয়ে যায়। সেখানে পুরুষদের উঠানে সারিবদ্ধ করে দাঁড় করিয়ে রাখে আর উঠানের পাশেই একটি ঘরে রাখে নারীদের। একের পর এক নারীদের ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। পরে সারিবদ্ধ পুরুষদের ওপর চলে ব্রাশ ফায়ার। মুহূর্তের মধ্যেই ওই গ্রামের ৫২ জন শহীদ হন। পরে হানাদাররা বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ করে চলে যায়।
সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন মনোয়ারা হক ১৯৯৬ সালে নিজ উদ্যোগে কিছু অনুদান দিয়ে কোনও রকমে ফলকে শহীদদের নাম লিপিবদ্ধ করার কাজ সম্পন্ন করেন। এরপর এখানে আর কোনও কাজ হয়নি। তাই বধ্যভূমিটি পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগকে জমি অধিগ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।