২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ৩৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৫ জন, মার্চে ৩৬ জন, এপ্রিলে ১৭ জন, মে মাসে ৩২ জন, জুনে ৩০ জন, জুলাইয়ে ২৯ জন, আগস্টে ২৩ জন সেপ্টেম্বরে ২৫ জন, অক্টোবরে ১৯ জন, নভেম্বরে ২১ জন, আর ডিসেম্বর ৩০ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তথ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ নাজিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে নগরীর রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের মাসকাটাদিঘি পাঁচতলা মোড়ের এলাকায় রাজশাহীগামী ন্যাশনাল ট্রাভেলস ও তাহেরপুরগামী অর্পা ট্রাভেলসে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। পরে তাদের রাজাশাহী মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে সৃষ্টি হয় যানজটের।
এ ঘটনায় দুটি বাসের দুই চালকও নিহত হয়েছেন। এরা হলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ন্যাশনাল ট্রাভেলস-এর চালক নারায়ণগঞ্জের শহীদুল ইসলাম শহীদ (৫০) ও রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া অর্পা ট্রাভেলস-এর চালক নাটোর সদর উপজেলার তোকিয়া এলাকার মিন্টু (৪০)। এ ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেন, রাজশাহীর দুর্গাপুরের আড়িয়াল গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান (৬৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার নওসিরা গ্রামের আজফার আলী (৫৫), তার স্ত্রী বেলি আরা বেগম (৫০), পুঠিয়ার ভাল্লুকগাছি গ্রামের ময়েনউদ্দিন (৭০) ও জেলার বাঘা উপজেলার ফতেপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ে ফারজানা শেখ লুবনা (২৮)। এদের মধ্যে লুবনা রাজশাহী সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্রী বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
এদিকে এবছর ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে রাজশাহীর বানেশ্বর, পুঠিয়া, হরিয়ানের কুখন্ডি খড়খড়ি, মোহনপুরের কেশরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। গত ১৫ জুলাই বুধবার মতিহারের খড়খড়ি এলাকার কুখন্ডি বাইপাসে নওদাপাড়াগামী একটি ভ্যানকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি ট্রাক। এতে জয়নাল নামে এক ব্যক্তির ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হন চারজন।
একইদিনে সকাল সাড়ে ৭টায় রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে ট্রাক-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপের দুই যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও তিনজন। নিহতরা হলেন, নাচোল উপজেলা সদরের নাজমুল হক (৪৫) ও নাচোল উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের মিজানুর রহমান (৪০)।
ঈদের দিন পুঠিয়ার শিবপুরের সড়ক দুর্ঘটনায় সাকের আলী (৪০) নিহত হন। তার পরের দিন মোটরসাইকেল ও পিকআপের সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী মিজান (২৫) নিহত হন। একইদিনে মোটরসাইকেল ও পিকআপের সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিলয় (১৬) নিহত হন। তিনি ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এর কয়েক দিন পরে দুপুর ১২টার দিকে মোহনপুরের কেশরহাট এলাকায় ভটভটি ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়।
রাজশাহী ট্রাফিক পুলিশের সিনিয়র এসি ইবনে মিজান বলেন, মহাসড়কে আটোরিক্সা ও ভটভটি চলাচল বন্ধ করায় আগের চেয়ে দুর্ঘটনা অনেক কমে গেছে। চালকরা বেশির ভাগ টানা গাড়ি চালায়। রাতে একটি টিপ থেকে এসে আবার সকালে আর একটি টিপে চলে যায়। এতে করে ড্রাইভারদের ঘুম না হওয়ার কারণে গাড়ি চালানোর সময় মুখোমুখি সংঘর্ষ বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। এতে করে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
তিনি আরও বলেন, বেশির ভাগ গাড়ি চালকরাই অদক্ষ। মহাসড়কগুলোর পাশে বিভিন্ন সাইনবোর্ডে লেখা থাকে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা বা সাবধানে গাড়ি চালান- এই সাইনবোর্ডগুলো গাড়ি চালকরা তেমন খেয়াল করেন না। দুর্ঘটনা পুলিশের একার পক্ষে কমানো সম্ভব না, এজন্য গাড়িচালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।
/এআর / এএইচ /