গৃহবধূকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ স্বামী ও সতিনের বিরুদ্ধে

বগুড়ার ধুনটে যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় আনার কলি (৩২) নামে এক গৃহবধূকে তার স্বামী ও সতিন খাবারে বিষ মিশিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপনে দাফনের চেষ্টা করলে ধুনট থানা পুলিশ উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরঘাট গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, আনার কলি ধুনট উপজেলার ঈশ্বরঘাট গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের মেয়ে। স্বামী ও এক সন্তান থাকার পরও প্রতিবেশী মোজাম্মেল হকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। মোজাম্মেল হকেরও স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে। প্রায় দু’বছর আগে আনার কলি ও মোজাম্মেল হক বিয়ে করেন।

আনার কলির ভাই আবদুস সোবহান অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে স্বামী মোজাম্মেল হক ও সতিন আম্বিয়া খাতুন যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। জমি বিক্রি করে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে না দেওয়ায় তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে পান্তা ভাত খাওয়ার পর আনার কলি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে রবিবার রাতে মারা যান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই ভাতে বিষ মেশানো হয়েছিল। স্বামী মোজাম্মেল হক ও তার স্বজনরা কাউকে না জনিয়ে সোমবার বাড়িতে লাশ নিয়ে আসেন। দুপুরে আনার কলির লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। খবর পেয়ে ধুনট থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা জানান, পান্তাভাত খাওয়ার পর গৃহবধূ আনার কলি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। তার ভাইয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।