পঞ্চগড়ে উদ্ধার বিশ্বের বিরলতম বিলুপ্ত প্রজাতির রেড কোরাল কুকরি সাপের চিকিৎসা চলছে রাজশাহীতে। বর্তমানে সাপটির শারীরিক অবস্থা খুবই নাজুক। মাটির নিচ থেকে উদ্ধারের পর দেখা যায়, সাপটি যন্ত্রের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়েছে। এ অবস্থায় সেটিকে চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়। সাপটি বর্তমানে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাপ উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানেই রেখে চলছে চিকিৎসা।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের বোদা এবং তেঁতুলিয়ায় এই সাপটি দেখা গেছে। এটি বাংলাদেশের সাপের তালিকায় যুক্ত হবে এবং গবেষণা হবে। এটি অবশ্যই একটা ভালো খবর। এই সাপটিকে অল্প বিষধর বলা হয়। তবে এটা থেকে যদি আমরা ভেনম সংগ্রহ করতে পারি তাহলে গবেষণা করে বুঝতে পারবো এটা কতটা বিষধর।’
বোরহান বিশ্বাস আরও বলেন, ‘সাপটা দেখতেও যেমন সুন্দর, তেমন এর জীবন প্রণালিও চমৎকার। অন্য সাপের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এটি মাটির নিচে থাকতে পছন্দ করে। দিনের বেলায় একদমই বের হয় না। যেখান থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়েছে সেখানকার মানুষরা জানিয়েছেন, এটিকে দেখা যেত খুবই কম।’
তিনি আরও জানান, তিনি ১৩ বছর যাবৎ সাপ নিয়ে গবেষণা করছেন। পঞ্চগড় ছাড়া অন্য কোনও জেলায় এই সাপ পাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। বিরল প্রজাতির এই সাপ মূলত হিমালয় অববাহিকায় থাকে। পাথর বা মাটির নিচে এদের বসবাস। সাধারণত সব সময়ই তারা লুকায়িত অবস্থায় থাকতে পছন্দ করে। এর নাম রেড কোরাল কুকরি হলেও স্থানীয়ভাবে তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কমলাবতী’। স্থানীয়রা সাপটিকে এই নামেই এখন ডাকছেন।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝালইশালসিরি ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ বাজারের পাশে গত সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্মাণাধীন একটি বাড়ির মাটি যন্ত্র দিয়ে খোঁড়ার সময় নিচ থেকে বেরিয়ে আসে বেশ কয়েকটি সাপ। তখনও কারও ধারণা ছিল না এখানেই মিলবে বিরল প্রজাতির প্রাণী রেড কোরাল কুকরি সাপ।