জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ কয়লা খনিতে মিথেন গ্যাসের সন্ধানে আজ মঙ্গলবার কূপ খননের কাজ শুরু করছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন পেট্রোবাংলা। এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি। দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের এ কাজ উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ সমর্থিত কয়লা অনুসন্ধান কর্মসূচির আওতায় ১৯৬২ সালে আবিষ্কৃত জামালগঞ্জ কয়লাখনি দেশে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত পাঁচটি খনির মধ্যে সবচেয়ে বড়। এর অবস্থানও ভূগর্ভের সবচেয়ে গভীরে। দেশের পাঁচটি খনিতে মোট কয়লার পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি মেট্রিক টন। এর মধ্যে ১০০ কোটি টনই হচ্ছে জামালগঞ্জ খনিতে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের অন্য খনিগুলোতে কয়লার অবস্থান যেখানে ১৫০ থেকে ৫০০ মিটার গভীরতার মধ্যে সেখানে জামালগঞ্জে কয়লার অবস্থান ৬৪০ থেকে ১ হাজার ১৫৮ মিটার গভীরে। এ কারণে প্রচলিত সুড়ঙ্গ অথবা উন্মুক্ত পদ্ধতির কোনওটিতেই এতো গভীর থেকে কয়লা তোলা ব্যাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়। তাই ‘কোল বেড মিথেন’ (সিবিএম) পদ্ধতির মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর খনি থেকে গ্যাস আহরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৯৯০ এর দশকে জার্মান প্রতিষ্ঠান বিএইচপি মিনারেল জামালগঞ্জ খনিতে গ্যাসের অবস্থানের বিষয়ে কিছু পরীক্ষা চালিয়েছিল। এর ফল বিশ্লেষণ করে বিএইচপি জানিয়েছিল, এই খনিতে ছোট থেকে মাঝারি আকারের একটি গ্যাস ক্ষেত্রের সমপরিমাণ গ্যাস থাকার সম্ভাবনা আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ওই পরিমাণ গ্যাস এখানে মজুদ থাকে তাহলে সেই গ্যাস ব্যবহার করে ৫০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভালোভাবেই ২০ বছর চালানো যাবে।
জামালগঞ্জ খনিতে প্রায় ২৩ হাজার কোটি ঘনফুট মিথেন গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সিবিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে গ্যাস অনুসন্ধানের এ কাজ করছে ভারতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মাইনিং অ্যাসোসিয়েটস প্রাইভেট লিমিটেড। জেলার বড় মাঝিপাড়া ও জামালগঞ্জে পৃথক তিনটি কূপ খনন করে গ্যাস থাকার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলবে আগামী জুন পর্যন্ত। দীর্ঘ ৫৩ বছর পর খনি খননের এই উদ্যোগে খুশি এলাকাবাসী।
/এসটি/