রাবির সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের দাবি

‘মানবিক কারণে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চাকরি দিয়েছি’

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা দেওয়া ১৪১ অ্যাডহক নিয়োগে আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি বলে দাবি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের  সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। নিয়োগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তার দাবি, আমি মানবিক কারণে তাদের চাকরি দিয়েছি,  যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের এবং আওয়ামী পরিবারের।  যারা চাকরি পেয়েছে তারা সকলেই অনার্স-মাস্টার্স পাস। সুতরাং তারা তৃতীয় শ্রেণির চাকরি ডিজার্ভ করে। আমি মনে করেছি তাদের চাকরি দেওয়াটা আমার দায়িত্ব। কেউ জড়িত নয়। আমি নিজেই চাকরি দিয়েছি। ১৩৭ এর মধ্যে ৪৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর নিয়োগের বিষয়টি অসত্য দাবি করে তিনি বলেন, নেতা হওয়া আর কর্মী হওয়া এক না। ছাত্রলীগ নেতা, ছাত্রলীগ কর্মী ও আওয়ামী পরিবার সব একই।

শনিবার (৮ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান তিনি।

এই নিয়োগে আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি দাবি করে আব্দুস সোবহান বলেন, ১৯৭৩ অধ্যাদেশের ১২ (৫) ধারায় উপাচার্যকে দেওয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে আমি নিয়োগ দিয়েছি। সুতরাং এখানে আইনের ব্যত্যয় হয়েছে তা নয়। এখানে হয়তো বলার কেউ চেষ্টা করছে সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিল। আমি মনে করি যেখানে সুস্পষ্ট আইন আছে,  ক্ষমতা দেওয়া আছে।  সেখানে নিষেধাজ্ঞা আসতে হলে ওই আইনটা বাতিল হওয়া উচিত।

সদ্য বিদায়ী উপাচার্য আরও বলেন,  আমরা যখন নিয়োগের ভাইবা নেবো তখন নিষেধাজ্ঞা আসে। করোনাভাইরাসের জন্য স্থগিত রাখি। ২০০টি পদে আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম, যারা প্রার্থী ছিল তাদের সবকিছু হয়ে গিয়েছিলো। শুধু ভাইবা বাকি ছিল। সুতরাং তারা ডিজার্ভ করে এটা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা পৌনে এগারটায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। এরপর তারা ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার কার্যালয়ে যান৷ সেখানে একে একে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম, সিনেট ভবনের পরিষদ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মামুন অর রশীদ, সংস্থাপন শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী, রেজিস্ট্রার দফতরের সহকারী রেজিস্ট্রার তরিকুল আলম ও সঙ্গীত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক দীনবন্ধু পাল, সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের জামাতা শাহেদ পারভেজসহ অনেককে। সবশেষে  তিনটার দিকে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে দফতরে আসেন সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহান। ঘণ্টাব্যাপী তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। ।  চারটা দিকে অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও ইউজিসির সদস্য  মুহাম্মদ আলমগীর  গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা চেয়েছি যেন স্বল্প সময়ের মধ্যে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে একটা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে পারি। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি ও সকল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। আমরা বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবো। তিনি আরও বলেন, আমরা তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য ৭ দিন সময় পেয়েছি। আশা করি এই সময়সীমার মধ্যেই সেটা দিতে পারবো।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৬ মে) উপাচার্য হিসেবে শেষ কার্যদিবস পালন করেন অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। গত ৫ মে তিনি সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে  ১৪১ জনকে অ্যাডহকে নিয়োগ দেন। এর মধ্যে ৯ জন শিক্ষক, ২৩ জন কর্মকর্তা, ৮৫ জন নিম্নমান সহকারী এবং ২৪ জন সহায়ক কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বিতর্কিত এই নিয়োগকে অবৈধ উল্লেখ করে সেদিন সন্ধ্যায় একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।