রুয়েটে বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে অধিক জনবল নিয়োগ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে অধিক সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ৪ মে অনুষ্ঠিত ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় এ নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে কত সংখ্যক অধিক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি।

অধিক জনবল নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে প্রয়োজনে নিয়োগ সংখ্যা বাড়তে বা কমতে পারে।’ তিনটি বিজ্ঞপ্তিতে ৭৬ পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগ হয়েছে। তবে কতজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ডিন ক্যাটাগরির এই সিন্ডিকেট সদস্য।

বাংলা ট্রিবিউনের হাতে আসা ডকুমেন্টস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট চারটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, যেখানে প্রায় দেড়শ’ জনবল নিয়োগ দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ২২ মে পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই বছরের ২২ অক্টোবর আরও একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে অক্টোবরে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। চারটি বিজ্ঞপ্তিতে অর্ধশতাধিক পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। করোনার মধ্যেই বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে আবেদনকারীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। যাচাইবাচাই শেষে গত ৪ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডকেট সভায় এসব পদের বিপরীতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এসব পদে বিজ্ঞাপিত পদের চেয়ে বেশি সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অধিক জনবল নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুয়েট ভিসি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিয়োগ হয়েছে। আমাদের বাজেট দেওয়া হয়েছিল। এখন যদি জনবল নিয়োগ না দেওয়া  হয়। তবে এ বাজেট চলে যাবে। পরে চাইলেও পাওয়া যাবে না। এছাড়া বিভাগ থেকেও চাহিদা ছিল। তাই অধিক সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

ক্যাম্পাস বন্ধ থাকা অবস্থায় অধিক সংখ্যক জনবল নিয়োগকে অযৌক্তিক মনে করছেন খোদ রুয়েটের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক শহীদুর রহমান। রাষ্ট্রপতি মনোনীত এ  সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, ‘করোনার কারণে আমি সশরীরে না গিয়ে অনলাইনে যুক্ত ছিলাম। ইন্টারনেটের সমস্যার কারণে মাঝে মধ্যেই ডিসকানেক্টেড হয়েছে। ফলে কতজন নিয়োগ হয়েছে বলতে পারি না। তবে করোনার মধ্যে যেখানে শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ রয়েছে সেখানে বিজ্ঞাপিত পদের অধিক জনবল নিয়োগের কোনও কারণ দেখি না। এখন অনেকেই বিভিন্ন যুক্তি দেখাতে পারে, তবে সেটি আমরা কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় না।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, বিজ্ঞাপিত পদের অতিরিক্ত একজনও নিয়োগ দেওয়া সুযোগ নেই। যদি কেউ দিয়ে থাকে তবে সুস্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘণ। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবু তাহের বলেন, ‘বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে অধিক জনবল নিয়োগের সুযোগ নেই। যদি কেউ এমনটা করে তবে স্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘণ। যোগ্য জনবল পাওয়া না গেলে প্রয়োজনে নিয়োগ হবে না। পরবর্তীতে ফের বিজ্ঞপ্তি দেবেন।’

উপাচার্যের দাবি করা বিজ্ঞপ্তিতে পদের সংখ্যা প্রয়োজনে বাড়তে কিংবা কমতে পারে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তাহের বলেন, ‘উপাচার্য এমন বিজ্ঞপ্তি দিতে পারেন না। এটি প্রতীয়মান যে শুরু থেকে উপাচার্যে খারাপ উদ্দেশ্য ছিল। আগে থেকে তিনি অধিকজনবল নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।’