রাজশাহীতে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজশাহীকে কঠোর লকডাউনের আওতায় আনার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউনের পরিবর্তে সন্ধ্যার পর ছয়টি বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এ বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল নিজেই মাঠে নামছেন। তৎপর থাকতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও। এর প্রভাব দিনেও দেখা গেছে। অধিকাংশ মানুষই এখন মাস্ক ব্যবহার করছেন।
শুক্রবার (৪ জুন) সন্ধ্যা ৭টার পর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো ফাঁকা করতে ও বিধিনিষেধের আওতার মধ্যে থাকা দোকানপাট বন্ধ করায় তৎপর থাকতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। হ্যান্ড মাইকিং করে সবাইকে নির্দেশনার বিষয়ে জানানো হচ্ছিল। এ সময় রাস্তায় চলাচলকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। তাদের সন্ধ্যা ৭টার পর বাইরে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছিল। বাইরে বের হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাদের সর্তক করা হচ্ছিল।
নগরীর কোর্ট এলাকার বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন জানান, ২ তারিখ থেকে সন্ধ্যার পর চলাচলে জেলা প্রশাসন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তাই সন্ধ্যার পর তেমন বের হচ্ছেন না। আর করোনার সংক্রমণও বাড়ছে। এ কারণে দিনেও তিনি সতর্ক থাকছেন। মাস্ক ব্যবহার করছেন। জনসমাগম ঘটছে এমন জায়গা থেকেও নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন।
এদিকে, বিধিনিষেধের দ্বিতীয় ও সরকারি ছুটির দিনে নগরীতে অন্যান্য দিনের চেয়ে জনসামগম কম ছিল। বাইরে যারা চলাফেরা করছেন তাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক দেখা গেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হয়নি।
ভোগান্তির শিকার যাত্রী আলাউদ্দিন জানান, তিনি রেওলয়ে স্টেশন থেকে কোর্টের দিকে যাবেন। কিন্তু অটোরিকশা ও সিএনজি ছাড়া অন্য কোনও গাড়ি নেই। সিএনজিগুলো গোদাগাড়ী উপজেলা ছাড়া যাত্রী নিচ্ছে না। আর অটো রিকশাগুলো তিন গুণ বেশি ভাড়া চাচ্ছে।
রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করেন রাকিবুল ইসলাম। কাজ শেষে তিনি রাত ১০টার দিকে বাসার দিকে রওনা হন। কিন্তু অটো চলাচল কম হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন। ভাড়া বেশি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে চারটি মোবাইল কোর্ট টিমকে নগরীর প্রধান প্রধান পয়েন্টে কঠোর অবস্থানে অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়। পয়েন্ট চারটি হলো– অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হকের পর্যবেক্ষণে রেলগেট পয়েন্ট, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নজরুল ইসলামের পর্যবেক্ষণে উপশহর পয়েন্ট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামের পর্যবেক্ষণে সাহেব বাজার পয়েন্ট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কল্যাণ চৌধুরীর পর্যবেক্ষণে অভিযান পরিচালিত হয়।
নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে কথা হয় প্রশাসনের কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে। তারা জানান, সন্ধ্যা থেকে শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ থাকবে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন বিধিনিষেধ জারি থাকবে।
উল্লেখ্য, রাজশাহী জেলা প্রশাসন করোনা প্রতিরোধে ছয়টি বিধি-নিষেধের কথা বলেছে। এতে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শপিংমল, মার্কেট, দোকান বন্ধ থাকবে। তবে ওষুধ, জরুরি প্রয়োজনীয় দ্রব্য, চিকিৎসা সেবা এবং দাফন ও সৎকারের প্রয়োজনীয় দ্রব্যের জিনিস এর আওতাবহির্ভূত থাকবে। এছাড়াও প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার পর জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলের ক্ষেত্রে নিজের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের গণজমায়েত বন্ধ থাকবে। আমসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য ও খাদ্যসামগ্রী পরিবহন এ আদেশের বাইরে থাকবে।