করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল (রামেক) কলেজ হাসপাতালে আরও দুই পুরুষ ও নারীর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া দুই জনই রাজশাহীর বাসিন্দা। শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার মধ্যে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এরা মারা যান।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে করোনা শনাক্ত কোনও রোগী মারা যাননি। তবে করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের আইসিইউ ও ২৯-৩০ নম্বর ওয়ার্ডে একজন করে মারা গেছেন। গত এক দিনে ষাটোর্ধ্ব একজন পুরুষ মারা গেছেন। মারা যাওয়া অন্যজন নারী। তার বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।
এদিকে ১৪৬ শয্যার রামেক করোনা ইউনিটে রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন ৬৯ জন রোগী। এক দিন আগেও এই সংখ্যা ছিল ৬৮ জন। করোনা নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৩৯ জন। করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৬ জন। করোনা ধরা পড়েনি ভর্তি ১৪ জনের। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন সাত জন। এই এক দিনে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১২ রোগী।
বর্তমানে রাজশাহীর ৫০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ জন, নওগাঁর চার জন, নাটোর ও পাবনার তিন জন করে, কুষ্টিয়ার দুই জন, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরের একজন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এর আগে, শনিবার রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষায় ৪২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। তবে একই দিনে রামেক ল্যাবে ২৭৯টি নমুনা পরীক্ষায় ৭৭ জনের করোনা ধরা পড়ে। রাজশাহী জেলার ২১৩টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬১টিতে। রাজশাহীতে করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। একই ল্যাবে নাটোরের ৬২টি নমুনা পরীক্ষায় ১৫ জনের করোনা ধরা পড়েছে। নাটোর জেলায় করোনা শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। এছাড়া জয়পুরহাট জেলার পাঁচটি নমুনা পরীক্ষা করে একজনের করোনা ধরা পড়েছে। জয়পুরহাটে করোনা শনাক্তের হার ২০ শতাংশ।