ত্রিভুজ প্রেমের জেরে জুয়েলকে হত্যা, গ্রেফতার ৩

নাটোরের লালপুর উপজেলায় জুয়েল আলী (৩০) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) রাতে উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ মার্চ) দুপুর ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এ তথ্য জানান। হত্যার শিকার জুয়েল দিলালপুর গ্রামের সাকেত আলীর ছেলে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো—দিলালপুর গ্রামের জিয়ারুলের স্ত্রী সেলিনা খাতুন (২৮), তার সৎ ছেলে মেহেদী হাসান (২০) এবং একই গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে মেহেদী হাসান লিটন (২০)।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৪ মার্চ দিলালপুর গ্রামের মাঠ থেকে জুয়েলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা সাকেত আলী বাদী হয়ে লালপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। বৃহস্পতিবার তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ত্রিভুজ প্রেমের জেরেই জুয়েলকে হত্যা করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার লিটন কুমার।

আরও পড়ুন: ফোনে ডেকে নেওয়ার পর মিললো যুবকের লাশ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে, জুয়েলের সঙ্গে সেলিনার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর পারিবারিকভাবে উভয়কে শাসন করা হয়। কিন্তু সেলিনার নিষেধ সত্ত্বেও জুয়েল তার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এ নিয়ে মেহেদী হাসানের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একদিন রাতে মেহেদী হাসান লিটনের বড় ভাই সুমন ঘরের জানালা দিয়ে সেলিনাকে টান দেয়। তখন তার হাত ধরে ফেলেন সেলিনা। এ নিয়ে সালিশে সাত হাজার টাকা জরিমানা দেয় সুমন। তারপরও সুমনকে মারধর করেন জুয়েল। ভাইকে মারধরের প্রতিশোধ নিতে কৌশলে সেলিনার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে লিটন। পরে মেহেদী হাসান ও সেলিনাকে নিয়ে জুয়েলকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

গত ৩ মার্চ রাতে লিটন ও মেহেদী ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেলিনাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোবাইল ফোনে জুয়েলকে নিজ বাড়িতে ডেকে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটের কথা বলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। এরপর তাকে লিটন ও মেহেদীর কাছে পৌঁছে দেয়। তারা কুড়াল ও চাকু দিয়ে কুপিয়ে ও হাত-পায়ের রগ কেটে জুয়েলকে হত্যার পর ফেলে রেখে সেলিনাকে ফোনে জানায়।