বগুড়া শহরের একটি বাড়িতে ঢুকে ইয়াবা রেখে এক গৃহবধূকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালানো এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার নারীর নাম আফরোজা বেগম রাখি। তিনি পুলিশের সোর্স, মাদক ব্যবসায়ী ও প্রতারক বলে জানা গেছে।
সোমবার (১১ এপ্রিল) শহরের জহুরুলনগর ব্যাংকপাড়া থেকে গ্রেফতার ওই নারীর বিরুদ্ধে উপশহর ফাঁড়ির এসআই রহিম উদ্দিন দণ্ডবিধি আইনে মামলা করেছেন। তবে ঘটনার সময় রাখির সঙ্গে থাকা চাকরিচ্যুত পুলিশ কনস্টেবল আলাল ও তার এক সহযোগী পালিয়ে গেছেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আলালের নাম এলে তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদক মামলার আসামি ও পুলিশের সোর্স আফরোজা বেগম রাখি বগুড়া শহরের জহুরুলনগর ব্যাংকপাড়ার ফয়সালের স্ত্রী। ভুক্তভোগী গৃহবধূ শহরের জহুরুলনগর উকিলপাড়ার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে সন্তানকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। আর তার স্বামী অফিসে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর দুই ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে তাকে জানায়, তিনি মাদক ব্যবসা করেন ও তার কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট আছে। তারা শরীর তল্লাশি করানোর জন্য রাখিকে ডেকে আনে। এ সময় রাখি বিছানার নিচ থেকে একটি কাগজে থাকা ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের নাটক করেন।
এরপর তারা ওই গৃহবধূর স্বামী ফরহাদকে ফোনে জানায়, তার স্ত্রীর কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে। এক লাখ টাকা না দিলে মামলা দেওয়া হবে। স্বামী ওই কথা বিশ্বাস করেননি। দুপুরের দিকে খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর মা, বোন ও ভগ্নিপতি আসেন। এরপর বাড়িতে অনুপ্রবেশকারী প্রতারকরা টাকা নিয়ে আলোচনা করতে থাকে। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ইয়াবা রাখার স্বীকারোক্তি ভিডিও করে তারা। ভগ্নিপতি বাধ্য হয়ে ১০ হাজার টাকা দিতে সম্মত হন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চাকরিচ্যুত পুলিশ কনস্টেবল আলাল অজ্ঞাত কারণে সদর থানায় খবর দিয়ে ওই বাড়ি থেকে চলে যান। চাকরিচ্যুত এই কনস্টেবল জহুরুলনগরে যুবলীগ নেতা ফিরোজ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
এসআই রহিম উদ্দিন জানান, ওই বাড়িতে গিয়ে ওই গৃহবধূকে ও পুলিশের সোর্স মাদক মামলার আসামি আফরোজা বেগম রাখিকে সদর থানায় নিয়ে আসা হয়। ওসি সেলিম রেজা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা জানতে পারেন। তখন রাখিকে গ্রেফতার ও ভুক্তভোগীকে সাক্ষী করা হয়।
তিনি আরও জানান, তারা ওই গৃহবধূর বাড়িতে যাওয়ার আগে সাবেক কনস্টেবল আলাল সেখানে ছিলেন। গ্রেফতার রাখি আগে তাদের সোর্স ছিল। তার বিরুদ্ধে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানায় ৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলা রয়েছে। তদন্তে আলালের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করা হবে।