পদ্মা নদীকে নিয়ে গান হয়েছে ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী’, উপন্যাস লেখা হয়েছে। সেই উপন্যাস থেকে সিনেমা হয়েছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। সেই নদী আজ কোথায়? আমরা সেই নদী ফিরে পেতে চাই। পদ্মা শুকিয়ে যাওয়ার জন্য ভারত দায়ী, এর জন্য তাদের থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। ফারাক্কা বাঁধ দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এমন কথা বলেন। শনিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কয়েক দশক আগেও উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো শুকনো মৌসুমেও ভরা থাকতো। পানির স্তরও বেশ উপরে ছিল। ফসল ফলাতে কৃষকদের পানির জন্য হাহাকার করতে হতো না। কিন্তু কয়েক দশকে ভারত সরকার পদ্মাসহ আন্তর্জাতিক ৫৪টি নদী নানাভাবে শাসন করেছে। তারা নদীগুলোতে বাঁধ তৈরি করে এই অঞ্চলকে মরুকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এতে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এই নদীগুলোর পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারকে ভারত সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৬১ সালে ভারতের গঙ্গা আর আর এদেশের পদ্মা নদীর ওপর ফারাক্কা বাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। ১৯৭৫ সালে মুজিব-ইন্দিরা গান্ধীর একটি চুক্তির মাধ্যমে ২১ এপ্রিল এই বাঁধ পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ৬০ ভাগ পানি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই পানির হিস্যা বাংলাদেশ পায়নি। উল্টো ভারত থেকে আসা বাংলাদেশের উপর বয়ে যাওয়া ৫৪টি নদীকে ভারত সরকার শাসন করছে। এই নদী শাসনের ফলে এদেশ মরুর মতো হয়ে যাচ্ছে। মাটির নিচের পানি আরও নিচে নামছে।
বাসদের সমন্বয়ক আলফাজ হোসেন বলেন, পদ্মাকে নিয়ে গান হয়েছে ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী’, উপন্যাস লেখা হয়েছে। সেই উপন্যাস থেকে সিনেমা হয়েছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। সেই নদী আজ কোথায়? ভারত নিজেদের সাম্রাজ্যবাদকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই বাঁধ দিয়েছিল। এই বাঁধের প্রতিবাদ শুরু থেকেই বাংলাদেশ করে আসছে। ১৯৭৬ সালে মজলুম জননেতা মওলানা হামিদ খান ভাসানী ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে লং মার্চ করেছিল। লাখ লাখ মানুষ তাতে অংশ নিয়েছিল। তখন ভাসানী বলেছিলেন, এই বাঁধ থাকলে এই অঞ্চল মরুভূমি হয়ে যাবে। আজ এত বছর পর সেই মরুর দিকেই এই অঞ্চল ধাবিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম নদী তিস্তাতেও বাঁধ দিয়েছে। এই নদীকে ধ্বংস করে ফেলেছে। টিপাইমুখ বাঁধ দিয়ে তারা এদেশের সব নদীকে ধ্বংস করার চক্রান্তে মেতে উঠেছে। অথচ এদেশের সরকার কোনও কিছু করতে পারছে না। এ দেশকে বাঁচাতে হলে আন্তর্জাতিক নদীর ওপর বাঁধ তুলে ফেলতে হবে। এ জন্য এদেশের সরকারকে শক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে। নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে এদেশের যত ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণও আদায় করতে হবে। এটা সময়ের দাবি।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রিদম শাহরিয়ার, বাসদের ছাত্রফ্রন্টের নগর কমিটির আহ্বায়ক সজীবুর রহমান, পবা থানার বাসদের সংগঠক সদীশ চন্দ্র প্রমুখ।